দুইবার এগিয়েও জয় নেই ইউনাইটেডের

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সেই লিড হারানোর পর ৮৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় তারা। তবু জয় নিয়ে ফেরা হলো না মাইকেল ক্যারিকের দলের। যোগ করা সময়ের প্রায় শেষ মুহূর্তে আইনসলি মেইটল্যান্ড-নাইলসের দুর্দান্ত গোলে এভারটনের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে ইউনাইটেড। আর দুইবার এগিয়েও পূর্ণ তিন পয়েন্ট ধরে রাখতে না পারায় আবারও প্রশ্ন উঠছে রেড ডেভিলদের শেষ দিকে ম্যাচ সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে।
রোববার লিভারপুলের হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে ইউনাইটেডের হয়ে গোল করেন ব্রায়ান এমবেউমো ও বেঞ্জামিন শেশকো। এভারটনের দুই গোল টাইরিক জর্জ ও অভিষিক্ত মেইটল্যান্ড-নাইলসের। তিন ম্যাচে ইউনাইটেডের পয়েন্ট এখন চার, এভারটনের পাঁচ।
প্রথমার্ধে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পেয়েছিল ইউনাইটেড। অষ্টম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের অভিনব ভলি ক্রসবারে লাগে। মার্কাস রাশফোর্ডও বাঁ প্রান্ত দিয়ে কয়েকবার এভারটনের রক্ষণে সমস্যা তৈরি করেন। ২২ মিনিটে তার কাটব্যাক থেকে সুযোগ পেয়েও মাতেউস কুনিয়া শট উড়িয়ে দেন। অন্যদিকে বিরতির ঠিক আগে এভারটনের থিয়ের্নো বারি ফাঁকায় হেড করেও লক্ষ্য খুঁজে পাননি।
বিরতির পর মাঠে ফিরেই গোল পায় ইউনাইটেড। ৪৬ মিনিটে কোবি মাইনুর কাছ থেকে বল পেয়ে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে দূরের কোণে বল পাঠান এমবেউমো। তখন পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটাই ছিল সফরকারীদের হাতে।
এরপরই অবশ্য ম্যাচটি ধীরে ধীরে ইউনাইটেডের হাত থেকে বের হতে থাকে। ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন কুনিয়া। প্রায় ফাঁকা গোলের সামনে তার শট নেওয়ার আগেই অসাধারণ ট্যাকলে বিপদ সামলান জেমস টারকোভস্কি। সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের গল্প হয়তো সেখানেই বদলে যেত।
৬৬ মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশকে নামানোর পর এভারটনের আক্রমণে গতি ও সমন্বয় বাড়ে। চাপ বাড়তে থাকার পরও ম্যাচের গতি নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নিতে পারেনি ক্যারিকের দল। ৮২ মিনিটে তারই শাস্তি দেয় এভারটন। হেইডেন হ্যাকনির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন টাইরিক জর্জ।
তবে ইউনাইটেডের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক। কুনিয়ার জায়গায় নামা শেশকো প্রথমে একটি হেড বাইরে মারলেও পরের সুযোগটি আর নষ্ট করেননি। ৮৭ মিনিটে লুক শ’র ক্রসে ছয় গজের কাছ থেকে হেডে গোল করে ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন স্লোভেনিয়ান ফরোয়ার্ড।
এই জায়গাতেই ইউনাইটেডের ম্যাচ সামলানো নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে। ম্যাচের তখন কয়েক মিনিটই বাকি। এমন পরিস্থিতিতে বলের দখল ধরে রাখা, খেলার গতি কমানো এবং নিজেদের বক্সের সামনে জায়গা বন্ধ করাই সাধারণত অগ্রাধিকার হওয়ার কথা। কিন্তু ইউনাইটেড ম্যাচটিকে সেই নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় নিতে পারেনি। বরং এভারটনকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
সমস্যাটা শুধু একটি অসাধারণ দূরপাল্লার গোল হজম করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২-১ করার পরও ইউনাইটেড প্রতিপক্ষকে নিজেদের বক্সের আশপাশে বল রাখতে দিয়েছে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে হ্যাকনির কাটব্যাক থেকে বল বক্সের বাইরে বেরিয়ে গেলে সেটি দ্রুত পরিষ্কার করতে পারেনি তারা। প্রায় ২৫ গজ দূরে বল পেয়ে সময় ও জায়গা দুটিই পান মেইটল্যান্ড-নাইলস। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে ওপরের কোণে বল পাঠিয়ে ম্যাচ ২-২ করেন এভারটনের নতুন খেলোয়াড়।
গোলটির মান অবশ্যই অসাধারণ। কিন্তু ইউনাইটেডের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন থাকবে, ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে কেন ওই জায়গায় একজন প্রতিপক্ষ এতটা খোলা অবস্থায় শট নিতে পারলেন। ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার বদলে তারা শেষ পর্যন্ত এটিকে খোলা রেখেছিল।
আরও বড় বিষয়, একই ম্যাচে দুবার লিড ধরে রাখতে পারেনি ইউনাইটেড। এমবেউমোর গোলের পর প্রায় ৩৬ মিনিট এগিয়ে ছিল তারা, কিন্তু এভারটনের ক্রমবর্ধমান চাপ থামাতে পারেনি। এরপর শেশকোর ৮৭ মিনিটের গোলের পর যখন দ্বিতীয়বার সুযোগ এলো ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার, তখনও সেই কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্যারিকের দল। দুইবার এগিয়ে যাওয়া ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে ইউনাইটেডের।
মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে তাই ইউনাইটেডের শুরুটা মিশ্র। নবাগত হালের কাছে প্রথম ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হারের পর ইপসউইচকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। এভারটনের বিপক্ষে জয় পেলে সেই ছন্দ আরও শক্ত হতে পারত। পরিবর্তে চার পয়েন্ট নিয়ে তিন ম্যাচ শেষে ১১তম স্থানে ক্যারিকের দল।
এভারটনের মাঠে আক্রমণে ভালো মুহূর্ত ছিল, এমবেউমোর গোল ছিল দুর্দান্ত, বদলি নেমে শেশকোও নিজের কাজ করেছেন। কিন্তু বড় দল হয়ে উঠতে শুধু এগিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট নয়, সেই লিড কীভাবে রক্ষা করতে হয় সেটিও জানতে হয়। হিল ডিকিনসনে ইউনাইটেডের সবচেয়ে বড় ঘাটতি শেষ পর্যন্ত সেখানেই।



