logo

মাঠে আবার লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন, পরিত্যক্ত ডেনমার্ক-ইউক্রেন ম্যাচ

মাঠে আবার লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন, পরিত্যক্ত ডেনমার্ক-ইউক্রেন ম্যাচ
ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মাঠে আবারও বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়ালেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। ইউক্রেনের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে হঠাৎ করেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন ডেনমার্কের এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। তবে প্রাথমিক স্বস্তির খবর হলো, তিনি সম্পূর্ণ সচেতন আছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে নিশ্চিত করেছে ডেনিশ ফুটবল ফেডারেশন।

রোববার (৭ জুন) ইউক্রেনের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটের মাথায় ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়, বুকে হাত দেওয়ার পরপরই মাটিতে পড়ে যান ৩৪ বছর বয়সী এরিকসেন। মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম এবং দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন মেডিকেল স্টাফরা। পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে আরও সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রোববারের এই ঘটনা ডেনিশ ফুটবলের জন্য এক ভয়াবহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি (দেজা ভু)। এর আগে ২০২১ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও একইভাবে মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন এরিকসেন। সেবার তাঁকে জীবনরক্ষাকারী সিপিআর (CPR) দিতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাঁর শরীরে ‘ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডেফিব্রিলেটর’ (ICD) ডিভাইস বসানো হয়। ২০২১ সালের কোপেনহেগেনের সেই রাতের মতোই, এবারও ডেনমার্ক ও ইউক্রেনের ফুটবলাররা দ্রুত এরিকসেনকে ঘিরে ক্যামেরার সামনে একটি মানবঢাল তৈরি করেন, যেন চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা পুরোপুরি বজায় থাকে।

ডেনমার্ক অধিনায়ক পিয়েরে-এমিল হইবিয়ার্গ জানান, একটি থ্রো-ইনের সময় তিনি ঘুরে তাকিয়ে এরিকসেনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখেন। পুরোনো অভিজ্ঞতার কারণে সবাই দ্রুতই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন। দলের চিকিৎসক মর্টেন বোয়েসেন ডেনিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এরিকসেন এবার নিজেই হেঁটে মাঠ ছেড়েছেন এবং তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে বসানো আইসিডি ডিভাইসটি ঠিকমতো কাজ করেছে। বোয়েসেনের ভাষায়, "এরিকসেন অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারালেও দ্রুত সচেতন হন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সতীর্থদের বার্তা পাঠিয়েছেন যে তিনি ঠিক আছেন।"

ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার সময় ডেনমার্ক ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে ফুটবলবিশ্বকে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে যে মাঠের ফলের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি; দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা একে অপরের হাত ধরাধরি করে মাঠে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। ডেনিশ কোচ ব্রায়ান রিমার ফুটবলারদের এমন সহমর্মিতার প্রশংসা করে বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এরিকসেন ভালো আছেন। এখন আমাদের দল হিসেবে একে অপরের পাশে থেকে মানসিকভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে।’

এরিকসেনের জন্য ফুটবল এর আগেও একবার থমকে গিয়েছিল, তবে আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি—তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সুস্থ ও সচেতন আছেন।