logo

৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এমন রাত খুব বেশি আসে না। প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ মিলে উপহার দিল এক অবিশ্বাস্য ফুটবল সন্ধ্যা। রক্ষণ ভুলে দুই দলই ঝাঁপিয়ে পড়ল আক্রমণে, আর ৭০ মিনিটের মধ্যেই হলো ৯ গোল। শেষ পর্যন্ত সেই গোল উৎসবে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফিরতি লেগের আগে সামান্য এগিয়ে থাকল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।

ম্যাচের শুরুটা ছিল বায়ার্নের দাপটে। মাইকেল ওলিসে, লুইস দিয়াস ও হ্যারি কেইনের গতি আর সমন্বয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যায় পিএসজির রক্ষণ। ১৭ মিনিটে সেই চাপের ফলও পায় জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। লুইস দিয়াসকে থামাতে গিয়ে বক্সে ফাউল করেন উইলিয়ান পাচো। পেনাল্টি থেকে মাতভেই সাফোনভকে ভুল পথে পাঠিয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন।

পিছিয়ে পড়ার পরও পিএসজি ভেঙে পড়েনি। দেম্বেলে একবার একা পেয়েও গোল করতে পারেননি, অন্যদিকে ওলিসের সুযোগ ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া। ২৪ মিনিটে দেসিরে দুয়ের পাস থেকে ভেতরে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান জর্জিয়ান উইঙ্গার।

সমতায় ফেরার পর পিএসজি যেন নতুন প্রাণ পায়। বায়ার্নের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে লুইস এনরিকের দল। ৩৩ মিনিটে দেম্বেলের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন জোয়াও নেভেস। মুহূর্তেই ০-১ থেকে ২-১ এগিয়ে যায় প্যারিসের দল।

তবে বায়ার্নকে শেষ ভেবে ভুল করার সুযোগ নেই। ৪১ মিনিটে পাভলোভিচের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে আবার সমতা ফেরান ওলিসে। ততক্ষণে ম্যাচ হয়ে উঠেছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলা এক উন্মত্ত লড়াই, যেখানে মাঝমাঠ প্রায় অদৃশ্য।

প্রথমার্ধের শেষেও থামেনি নাটক। যোগ করা সময়ে আলফোনসো ডেভিসের হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় পিএসজি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বায়ার্নের আপত্তি থাকলেও সুযোগ হাতছাড়া করেননি দেম্বেলে। স্পটকিক থেকে গোল করে বিরতিতে পিএসজিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে পিএসজি। ৫৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির নিচু ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কাভারাতস্কেলিয়া। জর্জিয়ান তারকার ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং আবারও দেখিয়ে দিল, বড় ম্যাচের মঞ্চে তিনি কতটা নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছেন।

এর তিন মিনিট পর দেম্বেলেও করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। দুয়ের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে মানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন তিনি। ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তখন মনে হচ্ছিল, প্রথম লেগেই হয়তো ফাইনালের পথ অনেকটা পরিষ্কার করে ফেলেছে পিএসজি।

কিন্তু এই ম্যাচের গল্প এত সহজ হওয়ার ছিল না। ৬৫ মিনিটে সেট পিস থেকে কিমিখের ডেলিভারিতে অরক্ষিত অবস্থায় হেডে গোল করেন দাইয়ো উপামেকানো। বায়ার্ন আবারও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। চার মিনিট পর সেই ইঙ্গিত বাস্তবে রূপ দেন লুইস দিয়াস। হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে মারকিনিয়োসকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ৫-৪-এ।

৯ গোল হয়ে যায় ৭০ মিনিটের মধ্যেই। তবু শেষ পর্যন্ত আর গোল পায়নি কোনো দল। পিএসজি এক গোলের লিড ধরে রাখে, বায়ার্নও দেখিয়ে দেয় এই সেমিফাইনাল এখনো শেষ হয়নি।

এই ম্যাচে পিএসজির আক্রমণভাগের তিন তারকা দেম্বেলে, কাভারাতস্কেলিয়া ও দুয়ে ছিলেন দুর্দান্ত। দেম্বেলে জোড়া গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্টও করেছেন, কাভারাতস্কেলিয়া করেছেন দুই গোল, আর দুয়ে দুই গোলের যোগান দিয়ে বড় ম্যাচে নিজের ছাপ রেখেছেন। বায়ার্নের হয়ে কেইন, ওলিসে, উপামেকানো ও লুইস দিয়াস গোল করলেও রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতা শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্য দিতে বাধ্য করেছে।

ফিরতি লেগ হবে জার্মানিতে। পিএসজি সামান্য এগিয়ে থাকলেও বায়ার্নের চার গোল এই লড়াইকে পুরোপুরি খোলা রেখেছে। প্যারিসে যে নাটক দেখা গেল, মিউনিখে তার দ্বিতীয় অধ্যায়ও যে কম উত্তেজনাপূর্ণ হবে না, সেই আভাস দিয়ে রাখল এই অবিস্মরণীয় প্রথম লেগ।