logo

নিরাপত্তা শঙ্কায় এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিরাপত্তা শঙ্কায় এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা
এএফসি আসিয়ান কাপ। ছবি: এএফসি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে আগামী বছরের এশিয়ান কাপ ফুটবল। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএফএ) সভাপতি সুনেয়াসু মিয়ামোতো।

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজন হলে প্রতিযোগিতাটি এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালে নেওয়া হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) টোকিওতে এএফসির বিশেষ কংগ্রেস শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়ামোতো। আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও আল খোবারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এশিয়ান কাপের ১৯তম আসর। তবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে মিয়ামোতো বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি, পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়। তাই এই মুহূর্তে সেখানে এশিয়ান কাপ আয়োজন করা সহজ হবে বলে মনে হয় না।’

এএফসির কংগ্রেস চলাকালে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। সেখানে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মিয়ামোতো বলেন, ‘সৌদি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সবার নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এএফসির সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির ঘরোয়া ফুটবলের একাধিক ম্যাচও স্থগিত করতে হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এশিয়ান কাপের মতো বড় প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালে নেওয়া হতে পারে। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাড়া নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এএফসি সভাপতি বলেছিলেন, ‘আমরা নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি। এই অঞ্চলের পরিস্থিতি খুব দ্রুত ভালো কিংবা খারাপ হতে পারে। প্রয়োজন হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। দরকার পড়লে প্রতিযোগিতা এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালেও আয়োজন করা সম্ভব।’

অবশ্য টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সৌদি আরবের স্থানীয় আয়োজক কমিটি গত ১৫ অক্টোবর জানিয়েছিল, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। ভেন্যু, অবকাঠামো ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ এএফসির সঙ্গে সমন্বয় করে চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় তারা।

তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জাপানের উদ্বেগ নতুন করে আলোচনায় এনেছে প্রতিযোগিতাটির ভবিষ্যৎ। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদি আরবের কয়েকটি অঞ্চলে ভ্রমণ সতর্কতা তৃতীয় স্তরে উন্নীত করেছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আওতায় পড়েছে এশিয়ান কাপের তিন আয়োজক শহর রিয়াদ, জেদ্দা ও আল খোবারও। এসব অঞ্চলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে জাপান সরকার।

জাপান ফুটবল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট নির্ধারিত সময়ে হলে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব তথ্য বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মিয়ামোতোর মতে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এদিকে জাপানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৮ নভেম্বর থাইল্যান্ডে এএফসির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এশিয়ান কাপের আয়োজন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও এএফসির নির্বাহী কমিটির সদস্য কোজো তাশিমা এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই বৈঠকে প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এশিয়ান কাপের আগামী আসরে অংশ নেওয়ার কথা এশিয়ার ২৪টি জাতীয় দলের। তবে প্রতিযোগিতা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, নাকি এক বছর পিছিয়ে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এএফসি।