logo
Advertisement

ম্যারাডোনার শৈশবের বাড়ি এখন দরিদ্রদের খাবারের আশ্রয়

এশিয়া পোস্ট নিউজ
ম্যারাডোনার শৈশবের বাড়ি এখন দরিদ্রদের খাবারের আশ্রয়

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিংবদন্তি এই ফুটবলার রেখে গেছেন অনেক স্মৃতি। ফুটবল এই জাদুকরের শৈশবের বাড়ি এখন এক ভিন্ন বাস্তবতার সাক্ষী। বুয়েনস আয়ার্সের উপকণ্ঠে ভিয়া ফিওরিতোর সেই ছোট্ট ঘরটিই আজ হয়ে উঠেছে দরিদ্র মানুষের খাবারের ভরসা—একটি অস্থায়ী ‘কমিউনিটি কিচেন’।

Advertisement

সপ্তাহে কয়েকদিন সেখানে ভিড় করেন আশপাশের বাসিন্দারা। হাতে প্লাস্টিকের পাত্র, অপেক্ষা শুধু একবেলার খাবারের জন্য। বাড়িটির উঠানে স্বেচ্ছাসেবীরা বড় বড় হাঁড়িতে রান্না করেন—কেউ আলু কাটছেন, কেউ মাংস প্রস্তুত করছেন, কেউ আবার আগুনের তাপ সামলাচ্ছেন।

ম্যারাডোনার পরিবার আর এই বাড়ির মালিক না হলেও বর্তমান মালিক জায়গাটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। সেই সুযোগেই স্থানীয় একটি দল এই উদ্যোগ চালাচ্ছে। দেয়ালে এখনো আঁকা রয়েছে ম্যারাডোনার ছবি, পাশে লেখা ‘লা কাসা দে দিয়োস’—‘ঈশ্বরের বাড়ি’। একসময় যেখান থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলারের যাত্রা শুরু, সেই জায়গাই এখন বহু মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অংশ।

দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও অনেকের জীবনযাপন এখনও অনিশ্চিত। মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু ভর্তুকি কমানো, চাকরি হারানো এবং ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ে গেছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

এই পরিস্থিতিতে ভিয়া ফিওরিতোর মতো এলাকায় খাবারের জন্য এমন উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, কাজ হারানোর পর অনেকেই নিয়মিত এখানে আসছেন, যা দেওয়া হচ্ছে, সেটাই নিয়ে যাচ্ছেন ঘরে।

২০২১ সালে ম্যারাডোনার এই বাড়িটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে সময়ের পালাবদলে সেই ঐতিহাসিক ঠিকানাই এখন নতুন এক গল্প বলছে—যেখানে ফুটবল নয়, লড়াইটা জীবনের। 

সূত্র: রয়টার্স