বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে মঞ্চ মাতাবেন ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএস

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই এতদিন ছিল মাঠের ৯০ মিনিট, ট্রফি আর ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা। এবার সেই মঞ্চে যোগ হচ্ছে সুপার বোল-ধাঁচের বিনোদনও। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো থাকবে হাফটাইম শো, আর সেই ঐতিহাসিক আয়োজনে পারফর্ম করবেন পপ আইকন ম্যাডোনা, শাকিরা ও কে-পপ সুপারগ্রুপ বিটিএস।
ফাইনালটি হবে ১৯ জুলাই, নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যা টুর্নামেন্টে ‘নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম’ নামে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম ফাইনালের বিরতিতে এমন হাফটাইম শো হবে। অনুষ্ঠানটি কিউরেট করবেন বিখ্যাত ব্যান্ড কোল্ডপ্লের ভোকালিস্ট ক্রিস মার্টিন।
এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আছে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই তহবিলের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবলে প্রবেশাধিকার বাড়াতে ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা। হাফটাইম শোকে তাই শুধু বিনোদন নয়, বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।
Madonna, Shakira and BTS will co-headline the first-ever FIFA World Cup Final Halftime Show on July 19th. pic.twitter.com/g85J72GJqa
— Pop Base (@PopBase) May 14, 2026
শাকিরার জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চ নতুন নয়। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি। এবারের বিশ্বকাপের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে নতুন গান ‘দাই দাই’-এর মাধ্যমে, যেখানে তার সঙ্গে আছেন নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়।
ম্যাডোনার উপস্থিতি এই আয়োজনকে দেবে আরেক স্তরের পপ-সংস্কৃতির ওজন। চার দশকের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক সংগীতমঞ্চের অন্যতম বড় নাম তিনি। অন্যদিকে বিটিএসের অন্তর্ভুক্তি বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোকে এশিয়া, বিশেষ করে কে-পপের বিশাল বৈশ্বিক দর্শকগোষ্ঠীর কাছেও আরও বড় করে তুলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়নহাপও জানিয়েছে, আয়োজকদের ঘোষণায় বিটিএসের পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই আয়োজন অবশ্য ফুটবলীয় আলোচনাও তৈরি করছে। ফাইনালের বিরতি সাধারণত ১৫ মিনিটের। বড় আকারের হাফটাইম শো হলে বিরতির সময় বাড়বে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন শো প্রথমবারের মতো হলেও ফিফা গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে একই ধরনের আয়োজন করেছিল, যেখানে বিরতি নিয়মিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়েছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপ এমনিতেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবার ৪৮ দল, তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা, আর ১০৪ ম্যাচের দীর্ঘ টুর্নামেন্ট।
