logo

আবার ঘরছাড়া হতে যাচ্ছে বার্সেলোনা

আবার ঘরছাড়া হতে যাচ্ছে বার্সেলোনা
বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যু। ছবি: গেটি ইমেজ

ক্যাম্প ন্যুতে ফিরেও আবার ঘরছাড়া হতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুম শেষে স্টেডিয়ামের ছাদ নির্মাণের কাজ শুরু হলে ২০২৭-২৮ মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় মন্তজুইকের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে খেলতে হবে কাতালান ক্লাবটিকে। একই সঙ্গে পুনর্নির্মাণের ব্যয় মেটাতে নতুন করে ৫১০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে বার্সা। সব মিলিয়ে ক্লাবটির মোট ঋণ ২.৬ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বার্সেলোনার সহসভাপতি ফেরান অলিভে জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ মৌসুম ক্যাম্প ন্যুতেই শেষ করবে দল। এরপর মে মাসে মৌসুমের শেষ ম্যাচের পর ছাদ নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে আবার ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার আশা করছে বার্সা। সে সময় স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৯৫ হাজারে পৌঁছাবে।

ছাদ বসানোর কাজ করতে হলে মাঠের ভেতরেই নির্মাণসামগ্রী রাখতে হবে। এ কারণে সেখানে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে না। বার্সেলোনা ইতোমধ্যে নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মন্তজুইকের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ফেরার বিষয়ে সমঝোতা করেছে।

মন্তজুইকের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আবার খেলতে হবে বার্সাকে। ছবি: গেটি ইমেজ
মন্তজুইকের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আবার খেলতে হবে বার্সাকে। ছবি: গেটি ইমেজ

ক্যাম্প ন্যুর পুনর্নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মে মাসে। শুরুতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও একের পর এক বিলম্বে সেটি পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে স্টেডিয়ামে ফেরে বার্সা। বর্তমানে ধারণক্ষমতা প্রায় ৬২ হাজার।

তবে মাঠের কাজের চেয়েও বড় মাথাব্যথা হয়ে উঠছে খরচ। ২০১৪ সালে পুরো প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ছিল ৬০০ মিলিয়ন ইউরো। পরে তা বাড়িয়ে ১.৫ বিলিয়ন করা হয়, আর এখন এস্পাই বার্সা প্রকল্পের বাজেট পৌঁছেছে ১.৮ বিলিয়ন ইউরোয়। অর্থাৎ শুরুর হিসাবের তিন গুণ।

নতুন অনুমোদিত ৫১০ মিলিয়ন ইউরোর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন খরচ হবে ক্যাম্প ন্যুর নির্মাণকাজে। বাকি ২১০ মিলিয়ন নেওয়া হচ্ছে ক্লাবের পরিচালন ব্যয়ের জন্য, যার বিপরীতে ভবিষ্যতের টেলিভিশন আয়ের একটি অংশ জামানত রাখা হয়েছে।

সব ঋণ হিসাব করলে বার্সার মোট ধার ২.৬ বিলিয়ন ইউরো ছাড়াতে পারে। এর মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত নয় ২০২২ সালে বিক্রি করা লা লিগার ভবিষ্যৎ টিভি আয়ের ২৫ শতাংশ কিংবা পালাউ ব্লাউগ্রানা নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয়।

তবে কাজ শেষ হলে নতুন ক্যাম্প ন্যুর পূর্ণ ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ৫ হাজার। বার্সেলোনার লক্ষ্য ২০২৮-২৯ মৌসুমের শুরুতে পুরো স্টেডিয়াম সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা। ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ভেন্যুও নির্বাচিত হয়েছে ক্যাম্প ন্যু।