logo
Advertisement

নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা শেষ, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি

নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা শেষ, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি
নেইমার জুনিয়র। ছবি: গার্ডিয়ান

ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে না ফেরার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এবার সেটিই নিশ্চিত করলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার ভাষায়, নেইমার নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, সেলেসাওদের হয়ে আর খেলতে চান না।

সিএনএন ব্রাজিলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘নিজের মানের কারণেই সে দলে থাকার যোগ্য ছিল। নেইমার ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে সে আর জাতীয় দলে ফিরতে চায় না।’

ব্রাজিল কোচের চোখে নেইমারের সরাসরি বিকল্প খোঁজাও অর্থহীন। তিনি বলেন, ‘নেইমারকে বদলি করা সম্ভব নয়। সে অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা ছিল। এমন খেলোয়াড়ের পুনরাবৃত্তি হয় না।’

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। সেই ম্যাচে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন নেইমার। বিশ্বকাপের পর জুলাইয়ে সান্তোসের হয়ে খেলার সময়ই জাতীয় দল নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক সুখী ছিলাম, নিজের রক্ত ও জীবন দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চাই না।’

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেকের পর প্রায় ১৬ বছর ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন নেইমার। ১৩০ ম্যাচে তার গোল ৮০টি। ফিফার হিসাব অনুযায়ী ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, তবে বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা জেতা হয়নি তার।

নেইমার অধ্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে ব্রাজিলেও শুরু হচ্ছে বড় ধরনের পালাবদল। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর ২০৩০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে তরুণদের বেশি সুযোগ দিতে চান আনচেলত্তি। সাম্প্রতিক দলেও সেই পরিবর্তনের ছাপ রেখেছেন তিনি।

ইতালিয়ান কোচ বলেন, ‘আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া তরুণদের দিকে নজর দিতে হবে। ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ও আছে, যারা এখনো নিয়মিত খেলছে না, কিন্তু খেলার সামর্থ্য তাদের আছে।’

তবে বয়স হলেই জাতীয় দলের দরজা বন্ধ, এমন নীতিও নিচ্ছেন না আনচেলত্তি। তার মতে, ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও একজন ফুটবলার ভালো খেলতে পারেন। কিন্তু বিশ্বকাপ-পরবর্তী এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে যাচাই করাই তার অগ্রাধিকার।

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোর দলেও বড় পরিবর্তন এনেছেন ব্রাজিল কোচ। বিশ্বকাপ দলে থাকা মাত্র নয়জনকে রেখে নতুন করে দল সাজিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য, ২০৩০ বিশ্বকাপের আগেই নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য তৈরি করা।