বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ফিফার কাছে টাকা চাইছে ১১ শহর

বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফিফার প্রতিশ্রুত অর্থ এখনো পায়নি যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহর। প্রতিটি শহরকে ১০ লাখ ডলার করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্ট আয়োজক কমিটির কর্মকর্তাদের। সেই হিসাবে ফিফার কাছে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ডলার চাইছে শহরগুলো।
দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, প্রতিশ্রুত অর্থের বিষয়ে জানতে ফিফার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কয়েকটি শহর। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার সময়সীমা জানায়নি। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি আয়োজক শহরকে ১০ লাখ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মাঠ নির্মাণ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অর্থটি দেওয়ার কথা ছিল। একে ঐতিহ্যবাহী অবদান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন তিনি।
এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোও একই পরিমাণ অর্থ পাবে কি না, তা ফিফার কাছে জানতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক কমিটির চার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিক বৈঠকে প্রতিটি শহরকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। যদিও এ বিষয়ে কখনো প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি ফিফা।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক শহর ছিল সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, আটলান্টা, ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি, মায়ামি এবং বোস্টন।
টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ায় কয়েকটি শহরের আয়োজক কমিটি এখন কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। ফলে পরে অর্থ পাওয়া গেলে কোন সংস্থা সেটি গ্রহণ ও ব্যয় করবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আবার কয়েকটি শহর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও ফিফার অর্থ সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
আয়োজক শহরগুলোর কর্মকর্তাদের ক্ষোভের বড় কারণ বিশ্বকাপ ঘিরে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয়। নিরাপত্তা, পরিবহন, ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দর ও সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত এলাকা পরিচালনার অধিকাংশ খরচ বহন করেছে সংশ্লিষ্ট শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলো। অন্যদিকে টিকিট, সম্প্রচারস্বত্ব, পৃষ্ঠপোষকতা, খাবার বিক্রি এবং গাড়ি রাখার জায়গা থেকে পাওয়া রাজস্বের বড় অংশ নিয়েছে ফিফা।
শুধু কানসাস সিটির আয়োজক কমিটিই সরকারি বিভিন্ন উৎস থেকে ৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পেয়েছিল। শহরটিতে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালও ছিল। বিশ্বকাপের টিকিটে স্থানীয় কর ছাড় দেওয়ায় আরও অন্তত ১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার রাজস্ব হারিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ফিফার অতিথিদের জন্য আলাদা যান চলাচলের ব্যবস্থা ও পুলিশি নিরাপত্তা, স্টেডিয়াম থেকে ফিফার অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন সরানো এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে শহরগুলোকে। বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের উপযোগী মাঠ তৈরির জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই অতিরিক্ত ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছিল।
২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের আর্থিক চক্রে ফিফার রাজস্ব ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। বিশ্বকাপ পরিচালনায় সংস্থাটির বাজেট ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ডলার। এত বিপুল আয়ের পরও তুলনামূলকভাবে সামান্য এই অর্থ দিতে বিলম্বের কারণ বুঝতে পারছেন না শহরগুলোর কর্মকর্তারা।
বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রবল বিরোধিতার মুখে আছেন ইনফান্তিনো। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক শহরগুলোর অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ ফিফা সভাপতির ওপর চাপ আরও বাড়াল।
.png)

