বিশ্বকাপ নিরাপত্তা ইস্যুতে কংগ্রেসকে সতর্ক করল স্বাগতিক শহরগুলোর কর্মকর্তারা

বিশ্বকাপ শুরু হতে কয়েক মাস বাকি। এমন সময়ে নিরাপত্তা, সমন্বয়হীনতা ও ফেডারেল তহবিল জট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বাগতিক শহরগুলোর কর্মকর্তারা। হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির শুনানিতে তারা জানান, ফেমা (FEMA) বরাদ্দের অর্থ দ্রুত ছাড় না হলে পরিকল্পনা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
কমিটির সদস্যদের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, পরিবহন, হোটেল, ফ্যান-ইভেন্ট, অনুশীলন ভেন্যু ও স্টেডিয়াম নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় সংস্থা ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কা, মানবপাচার, মাঠে আইসিই (ICE) উপস্থিতি এবং মেক্সিকোর সাম্প্রতিক কার্টেল সহিংসতা সব মিলিয়ে নিরাপত্তা চিত্র আরও জটিল হয়েছে।
ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের বরাদ্দ করা ৬২৫ মিলিয়ন ডলার ১১টি মার্কিন স্বাগতিক শহরের নিরাপত্তা জোরদারে এবং অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তহবিল স্থগিত থাকায় অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে। শুনানিতে রিপাবলিকান সদস্যরা ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেন, প্রয়োজনীয় ভোট না থাকায় তহবিল ‘আনফ্রিজ’ হচ্ছে না।
মায়ামি বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রে মার্টিনেজ জানান, প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল অর্থ না পেলে মার্চের শেষ থেকেই ফ্যান ফেস্টসহ কিছু পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ‘সময় খুব কম। অর্থ না পেলে পরিকল্পনা ও সমন্বয় ভেঙে পড়তে পারে,’ সতর্ক করেন তিনি।
কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগের উপপ্রধান জোসেফ ম্যাবিন বলেন, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের জন্য তহবিল ছাড় ‘অত্যন্ত জরুরি’। ম্যারিল্যান্ড গভর্নরের দপ্তরের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা ট্রাভিস নেলসন পরিস্থিতিকে ‘নির্ণায়ক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করে বলেন, একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো কাঠামো ভেঙে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ম্যাচ হবে ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, আর ফাইনাল ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে। সাম্প্রতিক সময়ে গুয়াদালাহারার কাছে কার্টেল সহিংসতা মেক্সিকোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্স, যার নেতৃত্বে আছেন অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
স্বাগতিক শহরগুলোর বক্তব্য স্পষ্ট—সময়ের কাঁটা দ্রুত ঘুরছে। নিরাপত্তা তহবিলের জট না কাটলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।