logo

বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের গল্প

বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের গল্প

বিশ্বকাপে অনেক গোল আছে, যেগুলো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। কোনোটা এসেছে শেষ মিনিটে, কোনোটা অতিরিক্ত সময়ে, কোনোটা আবার টাইব্রেকারের চাপের মাঝে। কিন্তু এমন একটি গোল আছে, যার জন্য দর্শকদের ঠিকমতো বসে পড়ারও সময় মেলেনি।

২০০২ বিশ্বকাপ। ম্যাচটি ছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। মুখোমুখি দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক। আয়োজক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া তখন স্বপ্নের মতো একটি বিশ্বকাপ কাটাচ্ছিল। ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার পর তারা চেয়েছিল শেষ ম্যাচটিও স্মরণীয় করে রাখতে।

কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই বদলে যায় গল্প। কিক অফের পর মাত্র ১১ সেকেন্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্সে ভুল, আর সেই সুযোগে বল পেয়ে যান তুরস্কের হাকান শুকুর। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি বল জালে পাঠিয়ে দেন। সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোল।

১১ সেকেন্ড। এত কম সময়ে একটি ম্যাচের আবহ বদলে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বকাপে আর নেই। দর্শকরা তখনো ম্যাচের ছন্দ ধরার চেষ্টা করছে, খেলোয়াড়রা নিজেদের অবস্থান নিচ্ছে, আর স্কোরবোর্ডে তুরস্ক এগিয়ে গেছে।

হাকান শুকুরের সেই গোল শুধু দ্রুততার জন্য স্মরণীয় নয় এই গোল ম্যাচের মানসিক চিত্রই বদলে দেয়। দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত গোল শোধ করলেও তুরস্ক শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয় ৩-২ ব্যবধানে এবং বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়।

২০০২ বিশ্বকাপ তুরস্কের জন্যও ছিল ঐতিহাসিক। তারা সেমিফাইনালে উঠেছিল, বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল এবং শেষে তৃতীয় স্থান নিয়ে দেশে ফিরেছিল। আর সেই যাত্রার শেষ ম্যাচে হাকান শুকুরের ১১ সেকেন্ডের গোল হয়ে থাকে তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তগুলোর একটি।

ফুটবলে অনেক সময় বলা হয়, ম্যাচের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০০২ সালের সেই ম্যাচে শুরুটাই হয়ে গিয়েছিল ইতিহাস।

আজও বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের কথা উঠলে প্রথমেই আসে সেই নাম, হাকান শুকুর। আর তার পাশে লেখা থাকে একটি অবিশ্বাস্য সময় :১১ সেকেন্ড।