ইনফান্তিনোর বিদায় কীভাবে, সামনে এল তিন বিকল্প

ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করে নিজের চেয়ারই নড়বড়ে করে ফেলেছেন সভাপকি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কয়েক দিনের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া ও কনকাকাফের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি। তার ওপর আস্থা হারানোর কথাও জানিয়েছে উয়েফা।
সবার অগোচরে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফার ১৩৬টি সদস্যদেশ। বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল উয়েফা। পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি তুলেছে কনকাকাফ, আর কঠোর অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও।
চাপের মুখে শনিবার পরিকল্পনাটি বাতিল করেন ইনফান্তিনো। তাতেও সংকট কাটেনি। তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও সরে দাঁড়িয়েছেন। এরপর উয়েফা জানায়, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর আস্থা নেই।
ফিফা সভাপতির বিদায়ের সবচেয়ে সহজ পথ তার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ। ২০১৫ সালে দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মধ্যে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন সেপ ব্ল্যাটার। তবে ইনফান্তিনো এখনো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। আগামী মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা তার।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়াতে জরুরি সভা ডাকতে পারে ৩৭ সদস্যের ফিফা কাউন্সিল। এজন্য প্রয়োজন অন্তত ১৯ সদস্যের লিখিত সমর্থন। কাউন্সিলে উয়েফার ৯, এএফসির ৭ ও কনকাকাফের ৫ সদস্য রয়েছেন। এই তিন অঞ্চল এক হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যা পাওয়া সম্ভব। তবে সবাই ইনফান্তিনোর অপসারণের পক্ষে ভোট দেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জরুরি সভা ডাকতে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া গেলে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেটি আয়োজন করতে হবে। কাউন্সিল সেখানে ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের অনুরোধ জানাতে পারবে। কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে সরাসরি তাকে সরানোর ক্ষমতা কাউন্সিলের নেই।
পরবর্তী পথ ফিফার ২১১ সদস্যের অসাধারণ কংগ্রেস। অন্তত ৪৩টি দেশ লিখিত আবেদন করলে এই কংগ্রেস ডাকতে হবে। ৫৫ সদস্যের উয়েফা একাই সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করাতে প্রয়োজন হবে ১০৬ ভোট।
পরিকল্পনাটি ১৩৬ দেশ প্রত্যাখ্যান করলেও সবাই ইনফান্তিনোর অপসারণ চাইবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কাতার ও মরক্কো ইতোমধ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মিসর। কনকাকাফের যৌথ অবস্থান থেকেও দূরত্ব তৈরি করেছে মেক্সিকো।
নির্বাচনের মাধ্যমে ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার নামও সামনে এসেছে। প্যারিস সেন্ট জার্মেই সভাপতি নাসের আল খেলাইফি আরেক সম্ভাব্য নাম হলেও তার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ তাই শেষ পর্যন্ত ১০৬ ভোটের সমীকরণের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে বড় পৃষ্ঠপোষকেরা ফিফা থেকে দূরে সরতে শুরু করলে ভোটের আগেই তার অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।
.png)

