ইরানের বদলে বিশ্বকাপে ইতালি, সত্যতা কতটুকু
-1776080722-11792_1776080737.webp)
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর দুই মাসেরও কম সময় বাকি। উত্তর আমেরিকার তিন দেশজুড়ে আয়োজনকে ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এই মুহূর্তে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে চলে আসছে, ইরান আদৌ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে কি না।
ড্র অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ইরানের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখানেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংশয়কে সামনে রেখে ইরানের সরকারি পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অনাগ্রহের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিশ্বকাপ বর্জন করতে চায় না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে রাজি নয়। এই দ্বৈত অবস্থানই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ফিফা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংস্থাটি এখনও দৃঢ় অবস্থানে আছে এবং তারা ধরে নিচ্ছে ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো দল সরে দাঁড়ায়নি, ফলে বিকল্প দল নিয়ে আলোচনা এখনও অনুমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এই অনিশ্চয়তার মাঝেই ইতালিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় প্লে-অফে হেরে বিশ্বকাপের বাইরে থাকা চারবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি কি শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেতে পারে, এমন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন ইউরোপিয়ান সংবাদমাধ্যমে।
কিছু ইউরোপীয় গণমাধ্যমে এমন ধারণা সামনে এসেছে যে, প্রয়োজন হলে বিশেষ ধরনের প্লে-অফ আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দল অংশ নেবে। সেই সম্ভাব্য তালিকায় ইতালির নামও রয়েছে।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই দেখাচ্ছে। ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী নিজেই এমন সম্ভাবনাকে প্রায় নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, বিষয়টি মূলত মহাদেশীয় ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করেন, ইরান সরে দাঁড়ালে সবচেয়ে যৌক্তিক পথ হবে এশিয়া মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল নেওয়া। এতে প্রতিযোগিতার কাঠামো এবং মহাদেশভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে।
অন্যদিকে ইতালিকে সরাসরি জায়গা দেওয়া বা নতুন করে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ আয়োজন করা হলে তা বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশ্বকাপের মতো আসরে ন্যায্যতা ও কাঠামোগত ভারসাম্য রক্ষা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতেই। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সংস্থাটি ভিন্ন পথও বেছে নিতে পারে, এমন সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের চূড়ান্ত অবস্থান। তারা যদি অংশ নেয়, তাহলে পুরো গ্রুপ পর্ব স্বাভাবিকভাবেই চলবে। কিন্তু যদি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তাহলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফিফাকে।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের বাস্তবতা এখন বিশ্বকাপের আলোচনায় বড় জায়গা দখল করে নিয়েছে। ইতালির জন্য সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে সেটি এখনো অনেক দূরের এবং অনিশ্চিত একটি সম্ভাবনা হিসেবেই রয়ে গেছে।
সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক, ফুটবল ইতালিয়া