মেসিকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অরের বিশেষ ভোটে সেরা রোনালদো
-81031c-720x405.webp)
লিওনেল মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নতুন এক সাফল্য পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ভোটে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নির্বাচনের এই আয়োজনে প্রথম হয়েছে রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেসির রেকর্ডগড়া ২০১২ সাল। তবে এই স্বীকৃতি কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক ট্রফি নয়, বরং সমর্থকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশেষ ভোটের ফল।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ বা সংক্ষেপে ‘বিওএটি’ (BOAT) নামের এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অরজয়ী ১০ ফুটবল কিংবদন্তির। তাদের ক্যারিয়ারের সামগ্রিক অর্জন নয়, ব্যালন ডি’অরজয়ী নির্দিষ্ট বছরগুলোর পারফরম্যান্স বিবেচনায় পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পান সমর্থকেরা।
গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া ভোটাভুটি চলে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন রোনালদো। গত ২০ অক্টোবর আয়োজকদের প্রকাশিত মধ্যবর্তী হিসাবে তার ২০০৮ সালের পারফরম্যান্সের পক্ষে পড়েছিল ৭৫ শতাংশ ভোট। বিপরীতে মেসির ২০১২ সালের পারফরম্যান্স পেয়েছিল ৯ শতাংশ ভোট। শেষ পর্যন্ত শীর্ষস্থান ধরে রেখে বিশেষ এই ভোটে জয়ী হন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো।
রোনালদোর যে মৌসুমটি সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছে, সেটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ গোল করার পাশাপাশি দলকে জেতান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।

সেই মৌসুমে শুধু প্রিমিয়ার লিগেই ৩১ গোল করেছিলেন রোনালদো। সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু-ও ওঠে তার হাতে। মস্কোয় চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও গোল করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে শিরোপা জেতে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো। সেবার ভোটাভুটিতে তার পেছনে ছিলেন বার্সেলোনার লিওনেল মেসি ও লিভারপুলের ফার্নান্দো তোরেস। পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে আরও চারবার পুরস্কারটি জেতেন তিনি। সেই সাফল্য আসে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে।
এবারের বিশেষ ভোটে রোনালদোর ২০০৮ সালের পর দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্স। ওই বছর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৯১ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলের সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। তা সত্ত্বেও সমর্থকদের এই ভোটে রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি।
তৃতীয় স্থানেও রয়েছেন রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্স জায়গা পেয়েছে এই অবস্থানে। চতুর্থ স্থানে মেসির ২০২৩ সাল এবং পঞ্চম স্থানে রোনালদোর ২০১৬ সালের সাফল্য। ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রোনালদোর ২০১৪, মেসির ২০১৫, রোনালদোর ২০১৩, মেসির ২০১১ ও মেসির ২০০৯ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্স।
তালিকার প্রথম ১২টি স্থানই দখল করেছেন এই দুই মহাতারকা। তাদের বাইরে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অর রয়েছে ১৩ নম্বরে।
বিশেষ ভোটে মেসি ও রোনালদো ছাড়াও জায়গা পেয়েছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি, মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, কেভিন কিগান, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে ও ব্রাজিলিয়ান রোনালদো। বিভিন্ন প্রজন্মের এই কিংবদন্তিদের ব্যালন ডি’অরজয়ী বছরগুলোর পারফরম্যান্স থেকেই সেরা বেছে নিতে বলা হয়েছিল সমর্থকদের।
তবে ভোটাভুটির পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। কারণ ভোট দিতে অংশগ্রহণকারীদের এক ইউরো দিয়ে ব্যালন ডি’অরের একটি ডিজিটাল ছবি কিনতে হয়েছে। একজন ব্যক্তি চাইলে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন। প্রতিবার ভোটের জন্য আলাদাভাবে এক ইউরো পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৯ জন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৬৫ জন দুই থেকে চারবার, ৩০০ জন পাঁচ থেকে নয়বার এবং ৪৪ জন ১০ থেকে ২৬ বার পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন। এই নিয়মের কারণে ফলাফলকে এক ব্যক্তি, এক ভোটের ভিত্তিতে ফুটবলপ্রেমীদের সামগ্রিক মতামতের প্রতিফলন বলা যায় না।
ভোটদাতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছিলেন আয়োজকেরা। অংশগ্রহণকারীরা ১৯৫৬ সালের প্রথম ব্যালন ডি’অরের একটি ঐতিহাসিক ডিজিটাল ছবি পাওয়ার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের তত্ত্বাবধানে এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে এই আয়োজনকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি’অর কিংবা ‘সুপার ব্যালন ডি’অর’ হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি আগেই পরিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বিওএটি মূলত সমর্থকদের জন্য বিশেষ আয়োজন। এর মাধ্যমে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বা ট্রফি দেওয়া হচ্ছে না।
ফলে রোনালদোর এই জয়কে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নির্ধারণের চূড়ান্ত স্বীকৃতি বলার সুযোগ নেই। বরং ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্সগুলোর মধ্যে সমর্থকদের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া ভোটে তাঁর ২০০৮ সালের সাফল্য সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর রোনালদোর সাফল্য নিয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে সংবাদ প্রকাশ করেছে তার সাবেক দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
-8b07d6.webp)
-217b46.webp)