logo

প্রেস্টিয়ানি বিতর্কে ব্রাজিলে ত্বরান্বিত হচ্ছে ‘ভিনিসিয়ুস আইন’

প্রেস্টিয়ানি বিতর্কে ব্রাজিলে ত্বরান্বিত হচ্ছে ‘ভিনিসিয়ুস আইন’

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ নতুন করে নাড়া দিয়েছে ব্রাজিলকে। জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে দেশের আইনসভায়। ফলে বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জোরালো হয়েছে।

ব্রাজিলের চেম্বার অব ডেপুটিজে আগেই উত্থাপিত প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য স্পষ্ট—স্টেডিয়ামে বর্ণবাদী আচরণ ঘটলে রেফারির হাতে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়া। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের শনাক্তে কার্যকর পদ্ধতি, ক্লাব ও কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং দেশজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচিও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা কংগ্রেসম্যান চিকো আলেনকার সরাসরি বলেন,
“ভিনিসিয়ুস বা অন্য কাউকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়া উচিত নয়। ‘বর্ণবাদ বন্ধ হোক’—এটা শুধু প্রচারণা হতে পারে না, বাস্তবে তার প্রতিফলন থাকতে হবে।”

একই দলের আইনপ্রণেতা সামিয়া বোমফিমও প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি একটি অপরাধ। তাই একে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতেই হবে।”

আসলে ব্রাজিলের কিছু অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে অনুরূপ প্রটোকল চালু রয়েছে—রিও ডি জেনেইরো ও রিও গ্রান্দে দো সুল তার উদাহরণ। এমনকি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) বর্ণবাদী ঘটনার সঙ্গে জড়িত ক্লাবগুলোর পয়েন্ট কেটে নেওয়ার বিধানও অনুমোদন করেছে।

তবু সাম্প্রতিক ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে একক ও কঠোর কাঠামো প্রয়োজন—এমন মতই এখন জোর পাচ্ছে ব্রাজিলে।

সব মিলিয়ে, ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ আর কেবল একটি প্রস্তাবিত খসড়া নয়; এটি এখন ব্রাজিলের ক্রীড়াঙ্গনে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠছে—মাঠে, সংসদে এবং জনমতেও।