অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলালেন ইরানের তিন নারী ফুটবলার
-1773562568-7231_1773562784.webp)
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের তিন সদস্য তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা স্বেচ্ছায় দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে ইরানের নারী ফুটবল দলের মোট সাতজন সদস্য—যার মধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফ অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজন সেই আবেদন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, তিনজন সদস্য আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে বর্তমানে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন, সেখান থেকে তারা দলের সঙ্গে ইরানে ফিরবেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ‘রাতের মধ্যে ইরানের নারী ফুটবল দলের তিন সদস্য দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্ত জানানোর পর তাদের সামনে বিকল্পগুলো নিয়ে বারবার আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’
ইরানের নারী ফুটবল দল সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে সেখানে অবস্থান করছিল। ঠিক সেই সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়।
এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় ইরানের নারী দলের খেলোয়াড়দের দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা হয়। এতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন কিছু খেলোয়াড় গোপনে দলীয় হোটেল ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেন। পরে আরও একজন খেলোয়াড় ও এক সাপোর্ট স্টাফও আশ্রয় চান।
তবে তাদের একজন আগেই সিদ্ধান্ত বদলে দলের সঙ্গে যোগ দেন। জানা গেছে, সতীর্থদের পরামর্শে তিনি ইরানের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এদিকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের জোর করে দেশে না ফিরতে প্ররোচিত করেছে। যদিও অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি