Advertisement

ইউরোপে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন সোমালিয়ার সেই রেফারি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ইউরোপে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন সোমালিয়ার সেই রেফারি
ওমর আবদুলকাদির আরতান। ছবি: সিএএফ

বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে গিয়েও বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার দুই মাস পর ইউরোপে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন সোমালি রেফারি। এবার তার সামনে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ।

Advertisement

উয়েফা সুপার কাপ পরিচালনা করতে অস্ট্রিয়ার সাল্ৎসবুর্গে পৌঁছেছেন আরতান। সেখানে বসবাসরত সোমালি সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বুধবার প্যারিস সেন্ট জার্মেই ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন তিনি।

এই ম্যাচ পরিচালনার মধ্য দিয়ে উয়েফা সুপার কাপের ইতিহাসে প্রথম অ-ইউরোপীয় রেফারি হবেন ৩৪ বছর বয়সী আরতান। এটি ইউরোপের মাটিতেও তার প্রথম ম্যাচ।

ঐতিহাসিক দায়িত্বের আগে উয়েফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশা নিয়ে কথা বলেছেন আরতান। তিনি বলেন, ‘সময়টি আমার জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। কেউ বছরের পর বছর পরিশ্রম করে একটি কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পর সেটি করতে না পারলে পরিস্থিতি খুবই কষ্টের হয়ে ওঠে।’

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নির্বাচিত রেফারিদের তালিকায় ছিলেন আরতান। সোমালিয়ার প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু গত জুনে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বৈধ ভিসা ও ফিফার কাগজপত্র থাকার পরও দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ। পরে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ফিরলে তাকে বীরের মতো স্বাগত জানিয়েছিলেন দেশটির মানুষ।

বিশ্বকাপের হতাশার পর উয়েফা সুপার কাপের দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি তার পরিবারে আনন্দ ফিরিয়ে আনে। আরতান বলেন, ‘ফোনটি পাওয়ার মুহূর্তটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য ভীষণ আনন্দের ছিল। ইউরোপ ও অস্ট্রিয়ায় বড় সোমালি সম্প্রদায় রয়েছে। এমন একটি ম্যাচে আমাকে দেখে তারাও অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।’

ইউরোপে প্রথম ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে শেখার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন আরতান। তিনি বলেন, ‘এটি ইউরোপে আমার প্রথম ম্যাচ। নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন, স্মৃতি তৈরি এবং নতুন কিছু শেখা সব সময়ই দারুণ। এত বড় একটি ম্যাচের দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত।’

সুপার কাপের প্রস্তুতি নিতে সোমালিয়ার ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি কুয়েত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচও পরিচালনা করেছেন আরতান। পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলার খেলার ধরন, কৌশল এবং ফুটবলারদের আচরণ নিয়ে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

ম্যাচটিতে আরতানের দুই সহকারীও থাকবেন আফ্রিকা থেকে। জিবুতির লিবান আবদুলরাজাক আহমেদ ও কেনিয়ার স্টিফেন এলিয়াজার ওনিয়াঙ্গো ইয়েম্বে সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন।

২০১৮ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে কাজ করছেন আরতান। ২০২৪ সালে প্রথম সোমালি হিসেবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি। পরে প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পরিচালনা এবং ২০২৫ সালের সিএএফ বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি পান।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও নিজের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি আরতান। নতুন প্রজন্মের রেফারিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আমি সফল হতে পারলে যে কেউ পারবে। কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ কোরো না।’

ইউরোপে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন সোমালিয়ার সেই রেফারি