১০ জন নিয়েও পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ

মালদ্বীপে চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। রোববার মালের স্টেডিয়ামে এক ঘণ্টার বেশি সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলার পরও শেষ দিকে ১০ জনে পরিণত হয় বাংলাদেশ। এরপরও পাকিস্তানের চাপ সামলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মারুফুল হকের দল।
বাফুফে দলটিকে অলিম্পিক দল বললেও বাস্তবে এটি ছিল অনেকটাই অনভিজ্ঞ এক বাংলাদেশ দল। কারণ, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বর্তমানে সিনিয়র জাতীয় দলের সঙ্গে সান মারিনোতে অবস্থান করছেন। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান জাতীয় দলের বিপক্ষে এই ড্র বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ফলই।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় লিড নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান দলে প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা বেশি থাকায় শারীরিক শক্তি ও টেকনিক্যাল দিক থেকে তারা এগিয়ে ছিল। বল দখল ও আক্রমণে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় গোলের দেখা পায়নি তারা।
বাংলাদেশের এক পয়েন্ট পাওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের। পুরো ম্যাচেই বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন বাংলাদেশের এই গোলরক্ষক।
বিশেষ করে ৬৭তম মিনিটে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ডের দূরপাল্লার শট বাম দিকে ঝাঁপিয়ে আংশিক রুখে দেন শ্রাবণ। পরে বল সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি বিপজ্জনক আক্রমণেও বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া পাকিস্তানি ফুটবলারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেন তিনি। ম্যাচজুড়ে এমন আরও কয়েকবার বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেছেন শ্রাবণ।
৬২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মঞ্জুরুর রহমানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্তটির প্রতিবাদ করলেও তা বদলায়নি। অভিযোগ ছিল, ফাউলের ঘটনায় মঞ্জুরুর সরাসরি জড়িত ছিলেন না। একই সময়ে পাকিস্তানের গোলরক্ষক বাংলাদেশের এক ফুটবলারকে আঘাত করলেও সে ঘটনায় বড় কোনো শাস্তি দেখা যায়নি।
সংখ্যায় একজন কমে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ শুধু রক্ষণেই আটকে থাকেনি। পাল্টা আক্রমণে সুযোগও তৈরি করেছে। আব্দুল্লাহ ওমর দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। সেগুলোর একটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।
তারই প্রমাণ।
