নেইমার-কাসেমিরোদের অধ্যায় শেষ, নতুন ব্রাজিলের ঘোষণা আনচেলত্তির

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় শুধু ব্রাজিলের একটি ব্যর্থ অভিযানই শেষ করেনি, অবসান ঘটিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজন্মেরও। নেইমার, দানিলো ও কাসেমিরোদের জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ বলে জানিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপের পর রিও ডি জেনেইরোয় ফিরে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোইস্পোর্তেকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আনচেলত্তি। সেখানে নরওয়ের বিপক্ষে নিজের কৌশলগত ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি নতুন ব্রাজিল গড়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন ইতালিয়ান কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজন্মের শেষ নির্দেশ করছে। নেইমার দিয়ে শুরু, এরপর দানিলো, কাসেমিরো এবং বিশ্বকাপে যাদের বয়স ত্রিশের বেশি ছিল।’
নেইমার এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আনচেলত্তির কথায় এবার দানিলো ও কাসেমিরোসহ আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের ব্রাজিল ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
তবে বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের পুরো দল একসঙ্গে বদলে ফেলতে চান না ব্রাজিল কোচ। নতুনদের সঙ্গে কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে রেখে দলে ভারসাম্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান তিনি। উদাহরণ হিসেবে মারকিনিওসের নাম বলেছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘আমি ২৬ জনকেই বদলে দেওয়ার কথা বলছি না। মারকিনিওসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে রাখতে হবে। প্রকল্পে ধারাবাহিকতার বার্তা দিতে তাদের থাকা জরুরি। তবে মূল ভাবনা হলো নতুন প্রজন্মকে দলে আনা।’
নতুন ব্রাজিলের প্রথম লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপ নয়। আনচেলত্তি আপাতত ২০২৮ কোপা আমেরিকাকে সামনে রেখে দল সাজাতে চান। আগামী বছর প্রীতি ম্যাচগুলোয় নতুন ও তুলনামূলক অপরিচিত ফুটবলারদের পরীক্ষা করা হবে।
এস্তেভাও, রায়ান, এন্দ্রিক ও ভিতর রেইসের মতো তরুণদের ভবিষ্যৎ দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে খেলা তরুণ ফুটবলারদের পাশাপাশি নতুন গোলকিপারেরও সন্ধান শুরু করতে চান তিনি। আলিসন ও এদেরসনের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় না থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা তার।
নতুন দলের খেলার ধরন নিয়েও পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক, এস্তেভাও ও রাফিনিয়ার মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড থাকায় ব্রাজিলকে বল দখলে রাখার চেয়ে সরাসরি ও গতিময় ফুটবল খেলতে হবে।
নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের কম বল দখল নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে আনচেলত্তি মনে করেন, বল দখলের পরিসংখ্যান সব সময় ম্যাচের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। স্পেনের মতো অসাধারণ মিডফিল্ড থাকলে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলা যায়। ব্রাজিলের শক্তি বর্তমানে আক্রমণভাগের গতি ও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করার ক্ষমতায়।
নরওয়ের বিপক্ষে হারের দায়ও এড়িয়ে যাননি ব্রাজিল কোচ। তার মতে, দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতি পর্যন্ত ব্রাজিল ম্যাচে ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু বিরতির পর দলের কাঠামো পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তেই নিয়ন্ত্রণ হারায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
নেইমারকে মাঠে নামানোর ব্যাখ্যায় আনচেলত্তি জানান, দুই প্রান্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় আক্রমণে বাড়তি মান যোগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। নকআউট ম্যাচে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। কখনো ফল পক্ষে এলে সিদ্ধান্ত সঠিক মনে হয়, আবার হারলে সেটিই ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়।
নরওয়ের কাছে হারকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্য পরাজয়গুলোর চেয়ে আলাদা বলেও স্বীকার করেছেন আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলে দ্রুত পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও বিশ্বকাপে সেই সুযোগ নেই। তাই এই হারের হতাশা কাটিয়ে উঠতে তারও সময় লেগেছে।
ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিলের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। চার বছর সময় নিয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলে ২০২৮ কোপা আমেরিকা এবং পরবর্তী সময়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ব্রাজিল তৈরি করাই এখন তার লক্ষ্য।
্রে
.png)





-445f74.jpg)
