‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমার পর ইরান নারী দলের নিরাপত্তা চাইল ফিফপ্রো

ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশটির এক রাষ্ট্রীয় টিভি উপস্থাপক খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল সংগঠনগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক প্রতিনিধি সংস্থা ফিফপ্রো। তাদের দাবি, চলমান আসর চলাকালীন এবং টুর্নামেন্ট শেষে দেশে ফেরার সময় ইরানের নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে ফিফা ও এএফসিকে।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় নীরব ছিলেন। সেই ঘটনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির উপস্থাপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে খেলোয়াড়দের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শাহবাজি ওই ভিডিওতে বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের আরও কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত। নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘চরম অসম্মান’ বলেও উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যের পর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ফিফপ্রো জানায়, টুর্নামেন্ট শেষে দেশে ফেরার পর খেলোয়াড়রা বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকার বিষয়ক নির্দেশনা এবং ফিফার মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর। এ জন্য এএফসি ও ফিফাকে দ্রুত ইরান ফুটবল ফেডারেশন, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ৩–০ ব্যবধানে হারার সময় ইরানের খেলোয়াড়রা নীরব থাকলেও তিন দিন পর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছিলেন এবং স্যালুটও করেছিলেন। তবে মাঠের ফলাফল তাদের পক্ষে যায়নি—সে ম্যাচেও ৪–০ গোলে হারে ইরান।
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে ইরানের ফরোয়ার্ড সারা দিদার আবেগ ধরে রাখতে কষ্ট পাচ্ছিলেন। তিনি দেশের পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। দলের কোচ মারজিয়াহ জাফারি বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রোববার ফিলিপাইনের মুখোমুখি হবে ইরান। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে দলটির জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—টুর্নামেন্ট শেষে দেশে ফেরার পর তাদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত থাকবে।