বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ১০ গোলের গল্প

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিছু ম্যাচ আছে, যেগুলো শুধু ফলাফলের জন্য মনে থাকে না। মনে থাকে কারণ সেগুলো পরিসংখ্যানের পাতায় এমন দাগ রেখে যায়, যা দশকের পর দশক পেরিয়েও মুছে যায় না। ১৯৮২ বিশ্বকাপের হাঙ্গেরি বনাম এল সালভাদর ম্যাচ তেমনই একটি গল্প।
স্পেনের এলচেতে সেদিন মাঠে নেমেছিল দুই দল। একদিকে ইউরোপের অভিজ্ঞ হাঙ্গেরি, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দেশ থেকে আসা এল সালভাদর। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটাই এল সালভাদরের জন্য ছিল বড় ঘটনা। কিন্তু মাঠে যা ঘটল, সেটি হয়ে গেল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
হাঙ্গেরি ম্যাচটি জেতে ১০-১ গোলে।
স্কোরলাইনটাই যথেষ্ট অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপের মূল পর্বে কোনো ম্যাচে এক দলের ১০ গোল করা আজও বিরলতম ঘটনা। আর এত বড় ব্যবধানের জয় এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসে রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।
প্রথমার্ধেই হাঙ্গেরি এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়তে থাকে। এল সালভাদর এক গোল করলেও সেটি শুধু স্কোরলাইনে সম্মান বাঁচানোর মতোই ছিল। হাঙ্গেরির আক্রমণ থামানোর কোনো পথ খুঁজে পায়নি তারা।
এই ম্যাচে আরেকটি অদ্ভুত রেকর্ড তৈরি হয়। বদলি হিসেবে নেমে লাসলো কিস করেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনিই প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন। শুধু তাই নয়, এত অল্প সময়ে তার তিন গোলও বিশ্বকাপের স্মরণীয় পরিসংখ্যানগুলোর একটি।
তবে এই গল্প শুধু গোলের উৎসব নয়। এর পেছনে আছে ফুটবলের কঠিন বাস্তবতাও। এল সালভাদর তখন খুব কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে এসে এমন ভারী হার তাদের জন্য ছিল আরও কঠিন অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে হাঙ্গেরির জন্য এই জয় ছিল রেকর্ডের, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তারা খুব দূর যেতে পারেনি। অর্থাৎ ১০ গোলের সেই ঝড়ও তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে বড় সাফল্যে পরিণত করতে পারেনি।
ফুটবলের ইতিহাস কখনো কখনো এমনই। একটি ম্যাচে আপনি রেকর্ড গড়তে পারেন, কিন্তু টুর্নামেন্ট আপনার গল্প অন্যভাবে লিখে দেয়।
১৯৮২ সালের সেই ম্যাচ তাই শুধু হাঙ্গেরির বড় জয় নয়। এটি বিশ্বকাপের এক অদ্ভুত স্মৃতি, যেখানে একদিকে গোলের বন্যা, অন্যদিকে বড় মঞ্চে এক দলের অসহায়তা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক রেকর্ড বদলেছে। কিন্তু ১০-১ স্কোরলাইনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।