নেগ্রেইরা কাণ্ডে আবার চাপে বার্সেলোনা

নেগ্রেইরা কাণ্ডে বার্সেলোনার ওপর আবারও চাপ বাড়ল। স্প্যানিশ ফুটবলের আলোচিত এই বিতর্কে রিয়াল মাদ্রিদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ নথি গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে উয়েফা। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, বার্সেলোনাকে ঘিরে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এসব নথি পর্যালোচনা করা হবে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস এর দাবি, প্রায় ৫০ হাজার পৃষ্ঠার নথি, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ উয়েফার কাছে পাঠিয়েছে রিয়াল। মূল লক্ষ্য, ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির সাবেক সহসভাপতি হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে বার্সেলোনার দেওয়া অর্থের উদ্দেশ্য ও প্রভাব খতিয়ে দেখা।
উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে চলমান তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নথি পাওয়া গেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে এগুলো বিবেচনা করা হবে।’
এরপর রিয়ালও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তদন্ত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, জমা দেওয়া নথিতে এমন তথ্য রয়েছে যা প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও রেফারিং ব্যবস্থার ওপর আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে এগুলো রিয়ালের দাবি; নথির বিষয়ে উয়েফা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বার্সেলোনা অবশ্য ‘তদন্ত পুনরায় চালু’ হওয়ার ব্যাখ্যাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। কাতালান ক্লাবটির বক্তব্য, ২০২৩ সালে যে তদন্ত শুরু হয়েছিল সেটি কখনো বন্ধই হয়নি। ফলে নতুন কোনো মামলা বা নতুন তদন্ত খোলা হয়নি; রিয়ালের পাঠানো নথি শুধু চলমান প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।
বার্সার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উয়েফা বার্সেলোনার বিরুদ্ধে নতুন কোনো তদন্ত শুরু করেনি। তদন্তটি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল... এটি পুনরায় খোলা হয়নি, কারণ কখনো বন্ধই হয়নি।’
ক্লাবটি আরও জানিয়েছে, উয়েফার তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা নথি তাদের কাছে চাননি।
নেগ্রেইরা কাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের অর্থ প্রদান। স্পেনে চলমান ফৌজদারি তদন্তে দেখা হচ্ছে, নেগ্রেইরা ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সাত মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ দেওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল। প্রসিকিউশনের সন্দেহ, এর মাধ্যমে রেফারিং ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। বার্সেলোনার দাবি, অর্থ দেওয়া হয়েছিল রেফারিদের নিয়ে কারিগরি প্রতিবেদন ও পরামর্শসেবার জন্য।
উয়েফা ২০২৩ সালেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। সেবার বার্সেলোনাকে সাময়িকভাবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ক্লাবটির অংশগ্রহণ নিয়ে আবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংস্থাটি সংরক্ষণ করে।
স্পেনেও মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আদালত তদন্তের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও দুটি সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি থাকায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা হয়নি।
ফলে নেগ্রেইরা কাণ্ডে এখন দুটি পথেই চাপ রয়েছে বার্সেলোনার ওপর; স্পেনের আদালতে ফৌজদারি তদন্ত এবং উয়েফার পৃথক শৃঙ্খলাবিষয়ক পর্যালোচনা। রিয়ালের নতুন নথি সেই ইউরোপীয় তদন্তেই নতুন মাত্রা যোগ করল
-465565.webp)