logo

যেভাবে গোলকিপারের ‘অলৌকিক’ গোলে আশা বাঁচল মরিনহোর বেনফিকার

যেভাবে গোলকিপারের ‘অলৌকিক’ গোলে আশা বাঁচল মরিনহোর বেনফিকার

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে বিরল এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো এস্তাদিও দা লুজ। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষ সময়ে বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিনের হেডে করা গোলেই রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনহোর বেনফিকা। এই এক গোলেই ইউরোপীয় আসরে বেনফিকার আশা বাঁচল, আর শিরোপা প্রত্যাশীদের জন্য সেটি হয়ে উঠল এক অবিশ্বাস্য ধাক্কা।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের যোগ করা মিনিটে বেনফিকা তখন ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকলেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে টিকে থাকতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরেকটি গোল। শেষ মুহূর্তে পাওয়া ফ্রি-কিকে বেনফিকার কোচ হোসে মরিনহো সাহসী সিদ্ধান্ত নেন— গোলরক্ষক ট্রুবিনকে তুলে পাঠানো হয় প্রতিপক্ষের বক্সে।

পরের মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। নিখুঁত টাইমিংয়ে উঠে আসা ট্রুবিন শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। সতীর্থদের সঙ্গে দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁটু গেড়ে উদযাপন করেন ইউক্রেনিয়ান গোলরক্ষক। সেই গোলই নিশ্চিত করে বেনফিকার প্লে-অফে ওঠা এবং একই সঙ্গে ছিটকে পড়ে মার্সেই।

ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেন, ‘এটি ছিল এক অসাধারণ, ঐতিহাসিক গোল। এমন একটি মুহূর্ত যা পুরো স্টেডিয়ামকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে জয় বেনফিকার জন্য বিশাল গর্বের।’

নিজেও পুরো পরিস্থিতি তখন পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেননি ট্রুবিন। গোলের আগে তিনি ক্রস ধরে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছিলেন, বুঝতেই পারেননি যে ওই মুহূর্তে বেনফিকা তখনো বিদায়ের ঝুঁকিতে ছিল। পরে তিনি বলেন, ‘আমি আগে বুঝতে পারিনি আমাদের আরেকটি গোল দরকার। সবাই আমাকে ইশারা করতে শুরু করে। তখনই বুঝি আমাকে সামনে যেতে হবে। এটা ছিল এক পাগলাটে মুহূর্ত। আমি গোল করতে অভ্যস্ত নই— এটা আমার জীবনের প্রথম।’

এই গোলের মাধ্যমে ট্রুবিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে গোল করা হাতে গোনা কয়েকজন গোলরক্ষকের একজন হয়ে গেলেন।

অবশ্য মরিনহোর জন্য বেনফিকায় ফেরা সহজ ছিল না। সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, ৬৩ বছর বয়সি এই কোচের সেরা সময় পেরিয়ে গেছে। লিগে বেনফিকা এখনো অপরাজিত থাকলেও তারা শীর্ষে নেই এবং শিরোপা লড়াইয়ে পিছিয়ে। ঘরোয়া কাপ থেকেও তারা আগেই বিদায় নিয়েছে।

ইউরোপে বেনফিকার শুরু ছিল হতাশাজনক। প্রথম চার ম্যাচে হার, এরপরও পরিস্থিতি এমন ছিল যে শেষ রাউন্ডে এসে তাদের বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ ম্যাচে এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মরিনহোর জন্য এক নতুন গল্প তৈরি করেছে।

ইউরোপীয় ফুটবল বিশ্লেষক জুলিয়েন লরেন্স বলেন, “রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে, নিজের সাবেক ক্লাবের বিরুদ্ধে এমন জয়— এই নাটকীয়তা মরিনহোর গল্পের সঙ্গে একেবারে মানানসই। শুরুটা খারাপ হলেও শেষ পর্যন্ত তারা বেঁচে গেল এক অলৌকিক মুহূর্তে।”

এই হারের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ লিগ পর্ব শেষ করেছে নবম স্থানে এবং তাদের যেতে হচ্ছে প্লে-অফে। ড্র অনুযায়ী, বেনফিকার বিপক্ষেই আবার রিয়ালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলান— যাদের সঙ্গেই মরিনহো ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন।

মরিনহো বলেন, “মাদ্রিদ বা মিলান— দুটো জায়গাতেই যেতে আমার ভালো লাগবে। যাকেই পাই, সেটাই হবে বড় ম্যাচ।”

তবে লিসবনে ট্রুবিনের সেই অলৌকিক গোল হয়তো এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এমন দৃশ্যের পর মরিনহোর ইউরোপীয় অভিযানে আরেকটি নাটকীয় অধ্যায় যে যুক্ত হলো, তা বলাই যায়।