শোক বুকে নিয়ে ফিলিস্তিনে ফিরল ফুটবল

প্রায় তিন বছর পর ফিলিস্তিনের মাঠে ফিরেছে আনুষ্ঠানিক ফুটবল প্রতিযোগিতা। গ্যালারিতে দর্শকের উল্লাসের সঙ্গে মিশে ছিল হারানোর বেদনা। গাজা যুদ্ধে নিহত ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের স্মরণে এই প্রত্যাবর্তনের আসরের নাম রাখা হয়েছে ‘হাজার শহীদ কাপ’।
গত শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবিরে একযোগে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতাটি। এতে অংশ নিচ্ছে দুই শতাধিক দল। যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন থমকে থাকা ঘরোয়া ফুটবলকে আবার সচল করতেই এই আয়োজন।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, যুদ্ধে ক্রীড়াঙ্গনের ১ হাজার ১৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন খেলার ক্রীড়াবিদ, কোচ, রেফারি এবং ক্লাব ও ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতেই আসরটির এমন নাম।
পশ্চিম তীরের আল রামে ফয়সাল আল হুসেইনি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় জাবাল আল মুকাবের ও শাবাব আল খলিল। ম্যাচের আগে উন্মোচন করা হয় নিহতদের নামসংবলিত স্মৃতিস্তম্ভ। খেলার ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে বাঁশি বাজিয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালনের নির্দেশ দেন রেফারি।
এই ম্যাচ দিয়েই ধারাভাষ্যে ফিরেছেন খলিল জাদাল্লাহ। গত তিন বছর যাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন, তাদের অনেকের খেলা একসময় বর্ণনা করেছেন তিনি। ফেরার অনুভূতি জানাতে গিয়ে এএফপিকে বলেন, ‘এতদিন পর ফিরে আসার আনন্দ আছে, আবার হারানোর বেদনাও আছে।’ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সমর্থক, কর্মকর্তা ও রেফারিদের হারানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
একই সময়ে গাজার দেইর আল বালাহতে মাঠে নামে খাদামাত রাফাহ ও শাবাব রাফাহ। ছোট মাঠের চারপাশে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে খেলা দেখেন সমর্থকেরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অনেক খেলার মাঠ এখন ঘরহারা মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল।
খাদামাত রাফাহর ফুটবলার খলিল মাতার বলেন, ‘যুদ্ধের আগে ফুটবলই ছিল আমাদের জীবন। যুদ্ধের পর ফুটবলারদের জীবন পুরোপুরি থেমে গিয়েছিল।’
পশ্চিম তীরে খেলা দেখতে আসা ৩৫ বছর বয়সী মাইসান সুলেইমানের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় ছিল এই প্রত্যাবর্তন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো দলের সমর্থক নই। এই আয়োজনের ভাবনাটিকে সমর্থন করতে এসেছি। ওরা সবাই তো ফিলিস্তিনের সন্তান।’
উদ্বোধনী দিনে জাবাল আল মুকাবের ৩-২ গোলে হারিয়েছে শাবাব আল খলিলকে। গাজায় খাদামাত রাফাহ জিতেছে ২-০ গোলে। লেবাননের আইন আল হিলওয়া শরণার্থীশিবিরে আল নাহদাকে একই ব্যবধানে হারিয়েছে আল আনসার।



