logo

গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের কিশোররা

গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের কিশোররা
গ্যাবন-বাংলাদেশ ম্যাচের দৃশ্য। ছবি: বাফুফে

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলারদের জয়যাত্রা চলছেই। একের পর এক বাধা পেরিয়ে এবার ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের ই-টায়ারের ফাইনালে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আফ্রিকার দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াই নিশ্চিত করেছে আকবর হোসেন রিদনের দল। নাঈমুর রহমান রাতুলের একমাত্র গোলে পাওয়া এই জয়ে নিজেদের স্তরের চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। প্রথম দশ মিনিটে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দিলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। পাল্টা আক্রমণে গ্যাবনও সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সতর্কতায় সফল হয়নি আফ্রিকার দলটি।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে বাংলাদেশের এক ফুটবলারের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন গ্যাবনের গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। সেই সুযোগে হেড করে বল জালে পাঠান রাতুল। তার গোলেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

চার মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি বাংলাদেশের এক ফুটবলার। ফলে এক গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় রিদনের শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে বাংলাদেশ। ৩৩ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি হলেও গোল পাওয়া হয়নি। অন্যদিকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি গ্যাবন। শেষ পর্যন্ত রাতুলের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের কিশোররা।

এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের দেশ মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন পাভেল হাসান। একটি করে গোল করেন মোহাম্মদ বায়েজিদ ও শিবাক কুমার মালি।

নকআউট পর্বের আগের দুটি ম্যাচে অবশ্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। শেষ বত্রিশে সিশেলসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় দলটি। প্রতিপক্ষের দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে জয়ের নায়ক হন গোলরক্ষক শ্রীনাথ। শেষ ষোলোতেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ।

অথচ প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে অভিযান শুরুর পর পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারে তারা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর বুরুন্ডির কাছেও ২-০ ব্যবধানে হেরে যায়। তবে শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের কিশোররা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পৌঁছে গেছে ফাইনালে।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র। অন্য সেমিফাইনালে চাদকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে দলটি। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় বাকুর ক্রিস্টাল হলে শুরু হবে ম্যাচটি।

তবে বাংলাদেশের এই ফাইনাল মূল বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াই নয়। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছে ১৮৯টি দেশ। প্রাথমিক পর্বের ফলের ভিত্তিতে দলগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলছে পঞ্চম স্তর বা ই-টায়ারে। এই স্তরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এখন তাদের সামনে। প্রতিযোগিতার মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে সর্বোচ্চ স্তর, অর্থাৎ এ-টায়ারের ফাইনালে।

আটজনের দল নিয়ে দুই অর্ধে ২০ মিনিট করে মোট ৪০ মিনিটের ম্যাচ হচ্ছে এই প্রতিযোগিতায়। নতুন এই সংস্করণে প্রথমবার অংশ নিয়েই নিজেদের স্তরের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের কিশোররা। এবার শেষ বাধা পেরিয়ে শিরোপা নিয়েই দেশে ফেরার লক্ষ্য তাদের।