তিন দিনের মধ্যে আবারও মাঠে লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

তিন দিনের ব্যবধানে আবারও মাঠে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা জামাল মুসিয়ালা। হাইডেনহাইমের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হয়ে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জার্মান এই মিডফিল্ডার। দ্রুত মাঠে ছুটে আসে চিকিৎসক দল। কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর নিজ পায়ে মাঠ ছাড়তে পারলেও আর খেলায় ফেরেননি তিনি।
মঙ্গলবার হাইডেনহাইমের মাঠে প্রাক-মৌসুমের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামে বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে মুসিয়ালাকে মাঠে নামান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাঝমাঠে কোনো প্রতিপক্ষের সংস্পর্শ ছাড়াই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
মুসিয়ালা পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই দলের ফুটবলাররা তাকে ঘিরে দাঁড়ান। চিকিৎসকরাও দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন। কয়েক মিনিট পর উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হন মুসিয়ালা। একজন স্টাফের সহায়তায় মাঠের বাইরে যাওয়ার সময় তাকে কিছুটা হতবিহ্বল দেখাচ্ছিল। এরপর সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার বড় কারণ, মাত্র তিন দিন আগেও প্রায় একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন মুসিয়ালা।
Preocupante lo de Musiala, volvió a caer desplomado 5 minutos después de entrar a la cancha contra Heidenheim
— La Perla (@Perla_Londres) August 18, 2026
Hace 3 días le había pasado contra el Leipzig. Hoy salió caminando
Esto + la fractura de peroné + desgarro facial, no le dan tregua a Jamalpic.twitter.com/PcmRO9jTz8…
গত শনিবার আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিকে হঠাৎ মাঠে পড়ে যান তিনি। তখনও সতীর্থরা দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর মাঠ ছাড়েন বায়ার্ন তারকা। সেই ম্যাচের পর বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল জানিয়েছিলেন, মুসিয়ালা ভালো আছেন। তবে কী কারণে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ম্যাচটি প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হওয়ায় তাপমাত্রা একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছিল।
সোমবার দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন না করলেও আলাদাভাবে অনুশীলন করেছিলেন মুসিয়ালা। ড্রিবলিং ও শুটিংয়ের কাজ করেন এবং অনুশীলনের সময় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি বলে জার্মান সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছিল। সে কারণেই হাইডেনহাইমের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো কিছুটা বিস্ময়কর হলেও বড় কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত তখন ছিল না।
কিন্তু পরের দিনই একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটায় উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
হাইডেনহাইম ম্যাচের পর এবার্ল অবশ্য বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বিল্ডের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য, ‘আপনারা জানতে পারবেন। জামাল খুব শিগগিরই নিজেই এ বিষয়ে কথা বলবে। আমরা বিষয়টি জানতাম এবং এখনো জানি।’
এবার্লের এই বক্তব্য থেকে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সেটি পরিষ্কার নয়। এখন পর্যন্ত মুসিয়ালার দ্বিতীয়বার পড়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কোনো নতুন রোগনির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনুমান করার সুযোগও নেই।
দীর্ঘ চোটের পর গত জানুয়ারিতে মাঠে ফিরেছিলেন মুসিয়ালা। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে গুরুতর চোটে তার গোড়ালি স্থানচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি ফিবুলায় ফ্র্যাকচার হয়েছিল। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর আবার নিয়মিত ফুটবলে ফিরেছিলেন তিনি।
হাইডেনহাইমের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জিতেছে বায়ার্ন। তবে জয় ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে মুসিয়ালার শারীরিক অবস্থাই। শনিবার বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে সুপার কাপ দিয়ে বায়ার্নের প্রতিযোগিতামূলক মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। তার আগে মুসিয়ালা খেলতে পারবেন কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।



-1777443035-14775_1777443082.webp)