logo

বিশ্বকাপের আগে ফিফার সামনে ছয় দুশ্চিন্তা

বিশ্বকাপের আগে ফিফার সামনে ছয় দুশ্চিন্তা

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সাধারণত আনন্দ, ঐক্য আর উৎসবের নাম। কিন্তু ২০২৬ আসর শুরু হওয়ার আগেই সেই পরিচিত ছবিটা কিছুটা বদলে গেছে। তিন দেশজুড়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠের বাইরের নানা সংকট, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই সামনে চলে আসছে। ভিসা জটিলতা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, টিকিট মূল্য থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ফিফার জন্য এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং বড় এক পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

জুনের ফুটবল বিশ্বকাপের আগে তাই বিশ্লেষকদের মতে ফিফার সামনে রয়েছে ছয়টি বড় দুশ্চিন্তা—

ভিসা ও ভ্রমণ জটিলতা 

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে অনেক দেশের সমর্থকদের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রবেশই অনিশ্চিত। এতে করে বিশ্বকাপের অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্র প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

টিকিটের উচ্চ মূল্য

টিকিটের দাম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। ফাইনালের টিকিট আগের আসরের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সীমিতসংখ্যক সস্তা টিকিট থাকলেও সেগুলো বাস্তবে পাওয়া কঠিন বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা কঠিন হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া ও মাঠের মান

যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়া এবং কিছু ভেন্যুর মাঠের মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আগের টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়রা এসব নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। গরমের কারণে অতিরিক্ত বিরতির ব্যবস্থা করা হলেও তা খেলার স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে।

ম্যাচে বিঘ্নের আশঙ্কা

বজ্রঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় খেলা স্থগিত থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের জন্যই সমস্যা তৈরি করতে পারে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে মেক্সিকোয় সহিংসতা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও আয়োজকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলছে, তবু উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ভ্রমণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এক আয়োজন। এই বাধাগুলো সামাল দিয়েই ফিফাকে প্রমাণ করতে হবে—ফুটবল এখনও বিশ্বকে এক করতে পারে। 

সূত্র: গোল.কম