ইনফান্তিনো বিতর্কের মধ্যেই ফিফার আরেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক পরিকল্পনার সমালোচনা করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংস্থাটির প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা কেভিন লামুর দায়িত্ব ছেড়েছেন।
সোমবার লামুরের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট থেকে তার সঙ্গে ফিফার সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে।
এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ‘ফিফা নিশ্চিত করছে, প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা হিসেবে কেভিন লামুরের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক ১৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে শেষ হয়েছে। দুই বছরের দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফিফা এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।’
তবে কেন লামুর দায়িত্ব ছাড়লেন, সে বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
লামুরের বিদায় ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত নতুন বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে ফিফার ভেতরে ও বাইরে তীব্র বিরোধের নতুন রূপ তৈরি করেছে। পরিকল্পনা ছিল বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট স্বত্ব পরিচালনার জন্য আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা এবং তার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সংস্থার তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে ফিফা।
বিতর্কের শুরুর দিকে লামুর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন, ওই পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার প্রশাসনিক বিভাগকে ‘বিভ্রান্ত করা হয়েছিল’। তার এই মন্তব্যের পর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
গত সপ্তাহে তিনটি কনফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক খোলা চিঠিতে ফিফার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। যদিও চিঠিতে ইনফান্তিনোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে তাকে ঘিরেই যে চাপ বাড়ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
লামুরের বিদায়ের দিনই ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না স্কটল্যান্ড।
ম্যাক্সওয়েল ফিফার বর্তমান প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তার মতে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন প্রয়োজন।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে আগামী নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়েও তৈরি হওয়া প্রশ্ন। অধিকারবিষয়ক সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ফিফার কাছে জানতে চেয়েছে, সংস্থার তিন মেয়াদের সীমাবদ্ধতার বিধি অনুযায়ী ইনফান্তিনো আদৌ ২০২৭ সালে আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না।
২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। তার প্রথম মেয়াদের একটি অংশকে পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে গণনা করা হবে কি না, সেটিই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
একদিকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ, অন্যদিকে একের পর এক ফুটবল সংস্থার সমর্থন প্রত্যাহার এর মধ্যেই এবার ফিফার গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তার বিদায় ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়াল।



-8564ab.webp)