logo

অধিনায়ক নন, একাদশও নিশ্চিত নয়—যে শর্তে ব্রাজিল দলে নেইমার

অধিনায়ক নন, একাদশও নিশ্চিত নয়—যে শর্তে ব্রাজিল দলে নেইমার
নেইমার জুনিয়র ও কার্লো আনচেলত্তি ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের ফেরা যতটা আলোচনার, তার পেছনের গল্পটাও কম নাটকীয় নয়। দল ঘোষণার চার দিন আগে কার্লো আনচেলত্তি সরাসরি কথা বলেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার সঙ্গে। সেই ফোনালাপেই নেইমারকে জানিয়ে দেওয়া হয় তার নতুন বাস্তবতা—তিনি আর দলের অধিনায়ক নন, শুরুর একাদশেও জায়গা নিশ্চিত নয়।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বরাতে মার্কা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ভিডিও কলে নেইমারের সঙ্গে কথা বলেন আনচেলত্তি ও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের ক্রীড়া পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো। প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নেইমারকে ফেরানোর আগে তার ভূমিকা, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা পরিষ্কার করে দিতে চেয়েছিল ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্ট।

আলোচনায় নেইমারকে জানানো হয়, নতুন কোচিং স্টাফের অধীনে জাতীয় দলে শৃঙ্খলা ও দলীয় আচরণবিধিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। মাঠের বাইরে তার উপস্থিতি, দলের পরিবেশে আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত দৃশ্যমানতা কমানোর বিষয়েও কথা হয়েছে।

আনচেলত্তি ও কায়েতানো মনে করেছিলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নেইমারের অবস্থান জানা জরুরি। নেইমার বার্তাটি ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিবেদনে। তিনি ব্রাজিলের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপে অবদান রাখতে সবকিছু করতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের পর আনচেলত্তি ও নেইমারের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম সরাসরি কথা। নতুন ভূমিকা মেনে নেওয়ার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তিকে আরও আশ্বস্ত করে। শুক্রবারের মধ্যেই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের ভেতরে নেইমারকে ২৬ জনের দলে রাখার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

দল ঘোষণার পর আনচেলত্তিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন, নেইমারের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নেইমার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, বিশ্বকাপেও সে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে তার ভূমিকা ও দায়িত্ব বাকি ২৫ জনের মতোই। সে খেলতে পারে, নাও খেলতে পারে, বদলি হিসেবে নামতে পারে, বেঞ্চেও থাকতে পারে।’

ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কার ও সৎ থাকতে চাই। সে খেলবে, যদি খেলার যোগ্য হয়। আমার মনে হয়, সব প্রত্যাশা একজন খেলোয়াড়ের ওপর চাপিয়ে না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’

চূড়ান্ত ঘোষণার দিন সকালেও নেইমারকে নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। করিতিবার বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচে পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছিলেন তিনি। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন তার ফিটনেস গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। গুরুতর কোনো চোট না থাকার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তার জায়গায় বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় ছিলেন জোয়াও পেদ্রো।

রিও ডি জেনিরোতে সোমবার রাতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণায় নেইমারের নাম উচ্চারণ করতেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড এবার খেলতে যাচ্ছেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ।

দল ঘোষণার পর নেইমার নাকি আনচেলত্তিকে বার্তাও পাঠিয়েছেন। সেই বার্তায় ব্রাজিল কোচের আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি, সঙ্গে ছিল সবুজ-হলুদ হৃদয়ের ইমোজি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর জাতীয় দলের দরজা আবার খুলেছে তার জন্য। তবে এবার নেইমারের সামনে চ্যালেঞ্জটা আলাদা—তারকা হিসেবে নয়, দলের নিয়মের ভেতর থেকে নিজের জায়গা প্রমাণ করা।