logo

ইউনাইটেডে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ক্যারিক, নতুন কোচ হচ্ছেন কে?

ইউনাইটেডে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ক্যারিক, নতুন কোচ হচ্ছেন কে?
ক্যারিক বরখাস্ত হলে রেড ডেভিলদের কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে হাও (বাঁয়ে) ও ন্যাগেলসম্যান (ডানে)। ছবি: কোলাজ

একের পর এক ব্যর্থতায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিকের চাকরি এখন চরম অনিশ্চয়তায়। বোর্নমাউথের কাছে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারের পর তাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন ক্লাবটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।

এরই মধ্যে সম্ভাব্য বিকল্প কোচের খোঁজও চলছে। সেই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এডি হাও। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবছেন না ক্যারিক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে বোর্নমাউথের কাছে ৩-০ গোলে হারে ইউনাইটেড। রায়ান, মার্কাস টাভার্নিয়ার ও এভানিলসনের গোলে বড় জয় পায় সফরকারীরা। এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জয়হীন রইল ইংলিশ জায়ান্টরা। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচের ছয়টিতেই হেরেছে তারা। প্রিমিয়ার লিগে আট ম্যাচে মাত্র একটি জয় ও ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৬তম স্থানে থাকা দলটি এখন অবনমন অঞ্চলের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বোর্নমাউথের বিপক্ষে হারের পর ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জরুরি আলোচনায় বসেছেন ইউনাইটেডের কর্মকর্তারা। তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্লাবের ভেতরেও ধারণা তৈরি হয়েছে, শিগগিরই দায়িত্ব হারাতে পারেন ৪৫ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ। তবে এখন পর্যন্ত তাকে সরানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

স্কাই স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, বোর্নমাউথের বিপক্ষে হারের আগেই বিকল্প কোচের বিষয়টি বিবেচনা করতে শুরু করেছিল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ পরাজয়ের পর সেই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়ে ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স ও প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদার মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন ক্লাবের ফুটবল কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণে থাকা স্যার জিম র‍্যাটক্লিফ।

ক্যারিকের বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন এডি হাও। গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ইউনাইটেডের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের প্রথম পছন্দ নিউক্যাসলের সাবেক এই কোচ। প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

গত জুলাইয়ে নিউক্যাসলের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নন হাও। প্রায় পাঁচ বছরের নিউক্যাসল অধ্যায়ে দলটিকে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে তার অধীনেই দীর্ঘ ৭০ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ঘরোয়া বড় শিরোপা হিসেবে লিগ কাপ জিতেছিল নিউক্যাসল।

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, ইউনাইটেডের কাছ থেকে প্রস্তাব পেলে আলোচনায় বসতে আগ্রহী হাও। বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না থাকায় তাকে নিয়োগ দিতে ক্ষতিপূরণও গুনতে হবে না ইউনাইটেডকে।

তবে হাও একমাত্র প্রার্থী নন। সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানি কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানও রয়েছেন আলোচনায়। ইউনাইটেডের নিয়োগ বিভাগের প্রধান ক্রিস্টোফার ভিভেল তাকে পছন্দ করেন। এর আগে আরবি লাইপজিগে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দুজন। নাগেলসমানও বর্তমানে কোনো দলের দায়িত্বে নেই। ফলে তাকেও দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অ্যাস্টন ভিলার উনাই এমেরি ও সাবেক চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তের নামও এসেছে। তবে এমেরিকে নিয়োগ দিতে গেলে প্রায় দুই কোটি পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে ইউনাইটেডকে। স্কাই স্পোর্টসের মতে, আপাতত হাও ও নাগেলসমানই এগিয়ে রয়েছেন।

কোচ পরিবর্তনের আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমেও অস্থিরতা চলছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতালির কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের পর ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। এর পরের ম্যাচেই বোর্নমাউথের বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখেন ক্যারিক। পুরো ম্যাচ বেঞ্চেই কাটাতে হয় পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে।

যদিও ক্যারিক দাবি করেছেন, ফার্নান্দেজকে না খেলানোর সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ ফুটবলীয় কারণে। অধিনায়কের সমালোচনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ব্রুনোর অনুপস্থিতিতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ইউনাইটেডকে নেতৃত্ব দেন হ্যারি ম্যাগুয়ের।

বোর্নমাউথের বিপক্ষে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন ক্যারিক। তবে ক্লাব তাঁকে সরিয়ে দেবে, এমনটা ধরে নিতে রাজি নন তিনি।

ইউনাইটেড কোচ বলেন, ‘পরিস্থিতিটা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যাশা করছি না। স্বাভাবিকভাবেই নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এই ক্লাবকে আমি ভালোবাসি। ক্লাবের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো মনে হবে, আমি সব সময় সেটাই করব।’

পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘এটি কঠিন সময়, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সামনে কী হবে, আমি সত্যিই জানি না। তবে ক্লাবের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাব। সেই অবস্থান বদলাবে না। আমি আমার কাজ ভালোবাসি এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।’

ম্যাচ শেষে অবশ্য গ্যালারি থেকে সমর্থন পেয়েছেন ক্যারিক। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্যেও ওল্ড ট্রাফোর্ডের দর্শকদের একটি অংশ তার নামে গান গেয়েছেন। মাঠ ছাড়ার সময় হাততালি দিয়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানান ইউনাইটেড কোচ। বিপরীতে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে দুয়োধ্বনি শোনা যায়।

সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া অভিবাদনটি বিদায়ী বার্তা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যারিক বলেন, ‘না, আমার পক্ষ থেকে এটি বিদায় ছিল না। সমর্থকেরা আমাকে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটির জন্য কেবল কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’

ক্যারিকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ের। তার দাবি, খেলোয়াড়েরা এখনো কোচের পাশে আছেন। ব্যর্থতার দায় শুধু কোচের ওপর না চাপিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকেও তাকানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাগুয়ের বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি মাইকেলের পাশে আছি। গত মৌসুমে তিনি এসে পরিস্থিতি বদলে দিয়েছিলেন এবং দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমরা যথেষ্ট ভালো খেলছি না। নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই আরও বেশি দিতে হবে।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্যারিক। তার অধীনে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরে ক্লাবটি। সেই সাফল্যের পর গত ২২ মে তাঁকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী চুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু নতুন মৌসুমে পুরোপুরি বদলে গেছে পরিস্থিতি। প্রিমিয়ার লিগ যুগে নিজেদের সবচেয়ে বাজে শুরু করেছে ইউনাইটেড। আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই বড় সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।