চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করে দেখালেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মুসো

শুরুটা করেছিলেন সুযোগ পেয়ে, শেষ করলেন নায়ক হয়ে। বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাফল্যের বড় অংশজুড়ে ছিলেন হুয়ান মুসো।
প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, যা শুধু ম্যাচই বাঁচায়নি, বদলে দিয়েছে পুরো টাইয়ের গতিপথ।
ম্যাচের একেবারে শুরুর দিকেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন মুসো। লামিন ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন মাত্র আধা মিনিটের মাথায়। এরপর প্রথমার্ধে ফেরান তোরেস ও ফেরমিন লোপেজের বিপজ্জনক প্রচেষ্টাও দারুণ দক্ষতায় সামলে দেন তিনি।
যে মুহূর্তে বার্সা তৃতীয় গোলের খুব কাছে ছিল, ঠিক তখনই মুসোর সেই সেভগুলো অ্যাটলেটিকোকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। পরে লুকম্যানের গোলের ভিত্তিটা তৈরি হয় সেই প্রতিরোধ থেকেই।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুসোর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস আর আবেগের মিশেল। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিশ্বাস করেছি, স্বপ্ন সত্যি হতে পারে।’
বার্সার পক্ষ থেকে ম্যাচ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সেটাও সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এটাকে ডাকাতি বলার চেষ্টা করা একেবারেই অযৌক্তিক। যেন আটটা পেনাল্টি পায়নি তারা। শেষ মুহূর্তের দুটি ট্যাকল ছিল, আর ফেরমিনের ঘটনাটা স্বাভাবিক ফুটবল মুভমেন্ট।’
দ্বিতীয়ার্ধে খুব বেশি সেভ করতে হয়নি মুসোকে, তবে ক্রস এবং হাই বল সামলাতে ছিলেন নির্ভরযোগ্য। পুরো ম্যাচজুড়ে তার স্থিরতা চোখে পড়ার মতো।
এই পারফরম্যান্সের পর কোপা দেল রে ফাইনালেও যে তিনিই অ্যাটলেটিকোর গোলবার সামলাবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্য। যদিও সামনে লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালকে ঘিরে ইয়ান ওব্লাক ও মুসোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠবে।
তবে আপাতত সে আলোচনা পাশে রেখে মুসো উপভোগ করছেন নিজের সময়। তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট, ‘আমরা কখনো টাইয়ে পিছিয়ে ছিলাম না। আমাদের দল আর স্বপ্নের ওপর বিশ্বাস ছিল সবসময়।’
সমর্থকদের কথাও ভুলে যাননি তিনি।
‘ইউরোপের সেরা সমর্থক আমাদেরই।’
অ্যাটলেটিকোর এই যাত্রায় মুসোর ভূমিকা এখন আর আড়ালে নেই। ব্যাকআপ গোলরক্ষক হিসেবে শুরু করলেও, বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি।