‘মেসি কি ভালো খেলোয়াড় ছিলেন?’ প্রশ্ন শুনে অবাক বার্সার সাবেক সভাপতি
-db649b-720x405.webp)
মেসি নাকি লামিনে ইয়ামাল, বার্সেলোনার কার জার্সি চাই? পরিবারের চার শিশুকে এমন প্রশ্ন করেছিলেন ক্লাবটির সাবেক সভাপতি হোয়ান গাসপার্ত। উত্তর পেতে দেরি হয়নি। সবাই বেছে নেয় ইয়ামালকে। কিন্তু এরপরই আসে অপ্রত্যাশিত পাল্টা প্রশ্ন, ‘মেসি কে?’
আর্জেন্টাইন মহাতারকার পরিচয় দেওয়ার পরও জানতে চায়, তিনি কি ভালো খেলোয়াড় ছিলেন? নিজের পরিবারের এমন অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি।
স্প্যানিশ ফুটবলবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সোলো পারা কুলেস টিভি’-তে মেসিকে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ঘটনাটি জানান গাসপার্ত। তার নাতি-নাতনিদের চার সন্তানকে বার্সেলোনার জার্সি কিনে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। জার্সিতে মেসি নাকি ইয়ামাল, কার নাম লেখা থাকবে, তা জানতে চাইলে সবাই ইয়ামালের নাম বলে।
গাসপার্তের ভাষায়, ‘আমি ওদের বললাম, জার্সিতে মেসির নাম লিখব নাকি লামিনের? ওরা বলল, দাদু, অবশ্যই লামিনে! তারপর জানতে চাইল, অন্য যে খেলোয়াড়ের কথা বললে, সে কে?’
মেসির পরিচয় দেওয়ার পরও ছোটদের কৌতূহল শেষ হয়নি। গাসপার্ত বলেন, ‘আমি বললাম, লিওনেল মেসি। তখন ওরা জানতে চাইল, সে কি ভালো খেলোয়াড় ছিল? আমি বললাম, সে অসাধারণ ফুটবলার ছিল, আমার দেখা ইতিহাসের সেরা। তারপরও ওদের কথা, দাদু, তবু আমি লামিনের জার্সিই চাই।’
বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্যের সাক্ষী গাসপার্ত। আর্জেন্টাইন তারকা যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটিতে যোগ দেন, তখন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই মেসির চেয়ে এখন তার পরিবারের নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি আকর্ষণীয় ইয়ামাল।
তবে শুধু পরিবারের এই অভিজ্ঞতাই নয়, একই সাক্ষাৎকারে মেসিকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন গাসপার্ত। বার্সেলোনা ছাড়ার পাঁচ বছর পরও সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মেসির উদ্দেশে গাসপার্ত বলেন, ‘ফুটবলার হিসেবে লিওকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সে বিশ্বের সেরা। কিন্তু একটি বিষয় তার ভুলে গেলে চলবে না, বার্সেলোনা তার চেয়েও বড়। তার সতর্ক থাকা উচিত।’
মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানালেও ক্লাবের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই সভাপতি। তার মতে, মেসির বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে বার্সেলোনারও অবদান রয়েছে। সেটি আর্জেন্টাইন তারকার ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
২০২১ সালে অনেকটা আকস্মিকভাবেই বার্সেলোনা ছাড়তে হয়েছিল মেসিকে। বিদায়ের সময় সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর সুযোগ পাননি তিনি। এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্প ন্যুতে তাঁর বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায় আটকে থাকার পেছনে বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে তাঁর শীতল সম্পর্ককে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। ২০২১ সালে মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুজনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
তবে গাসপার্তের মতে, সভাপতি যিনিই থাকুন না কেন, সমর্থকদের বিদায় জানাতে মেসির ফিরে আসা উচিত। লাপোর্তা দায়িত্বে না থাকা পর্যন্ত মেসি যদি সংবর্ধনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই অনুষ্ঠানে নিজেই উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
গাসপার্তের ভাষায়, ‘লাপোর্তা সভাপতি থাকুক বা না থাকুক, তার আসা উচিত। যদি লাপোর্তা দায়িত্বে নেই বলেই সে সংবর্ধনায় আসে, তাহলে আমি সেই অনুষ্ঠানে যাব না। সে নিজেকে কী মনে করে? বার্সেলোনায় আসার বিষয়টি লাপোর্তা সভাপতি আছেন কি নেই, তার ওপর নির্ভর করবে কেন?’
যদিও লাপোর্তা সভাপতি থাকলে সংবর্ধনায় অংশ নেবেন না, এমন কোনো শর্ত মেসি প্রকাশ্যে দিয়েছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাসপার্ত মূলত এমন সম্ভাবনার বিরুদ্ধেই নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেছেন মেসি। জিতেছেন ১০টি লা লিগা ও চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ ৩৫টি শিরোপা। ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।
-9d9102.webp)