লিওনকে উড়িয়ে নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল বার্সেলোনা

একজন ফুটবলারের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে হার একবারই যথেষ্ট বেদনার। এভা পায়োর সেই কষ্ট দেখেছেন পাঁচবার। চারবার ভলফসবুর্গের জার্সিতে, একবার বার্সেলোনার হয়ে। শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ চেষ্টায় আর গল্পটা বদলাতে দিলেন না পোলিশ স্ট্রাইকার। নিজেই করলেন জোড়া গোল, বার্সেলোনাকে এনে দিলেন নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।
শনিবার নরওয়ের অসলোতে উলেভাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওএল লিওনকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচের প্রথম দুই গোল করেন পায়োর। শেষদিকে জোড়া গোল করেন সালমা পারায়ুয়েলো। তবে রাতটা শেষ পর্যন্ত পায়োরেরই হয়ে থাকে। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।
২৯ বছর বয়সি পায়োরের জন্য এই শিরোপা ছিল অনেক বছরের অপেক্ষার শেষ দৃশ্য। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বারবার কাছে গিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। গত মৌসুমেও বার্সেলোনার হয়ে ফাইনাল হারের কষ্ট পেয়েছিলেন। তাই লিওনের বিপক্ষে জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
ম্যাচ শেষে পায়োর বলেন, এটি তার জীবনের সেরা দিন। এমন একটি দলের অংশ হতে পারাকে তিনি কৃতজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। সতীর্থদের প্রতিদিনের পরিশ্রমের কথাও বলেছেন তিনি, যে পরিশ্রম বার্সেলোনাকে আবার ফাইনালে এনে এবার চ্যাম্পিয়ন করেছে।
প্রথমার্ধে অবশ্য পায়োরের রাতটা অন্য রকমও হতে পারত। দুটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। একবার গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিতে গিয়ে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন, আরেকবার প্রায় ফাঁকা গোল পেয়েও শট রাখতে পারেননি জালে। কিন্তু বড় খেলোয়াড়দের গল্প অনেক সময় দ্বিতীয় সুযোগেই লেখা হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিটের মাথায় সেই সুযোগই আসে। লিওনের নরওয়েজিয়ান তারকা আদা হেগারবার্গের একটি পাস কেটে নেন পাত্রি গুইহারো। দ্রুত ওয়ান-টু খেলে সামনে এগিয়ে গিয়ে পায়োরকে খুঁজে নেন তিনি। এবার আর ভুল করেননি পোলিশ ফরোয়ার্ড। ঠান্ডা মাথায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট রাখেন জালে।
প্রথম গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নেয় বার্সেলোনা। পায়োরের দ্বিতীয় গোল কার্যত লিওনের ফেরার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এরপর শেষদিকে সালমা পারায়ুয়েলোর দুই গোল শুধু ব্যবধান বাড়িয়েছে। ৪-০ গোলের জয় দিয়ে বার্সেলোনা বুঝিয়ে দিয়েছে, ইউরোপের মঞ্চে তাদের আধিপত্য এখনও অটুট।
শিরোপা জয়ের পর পোল্যান্ডের পতাকা গায়ে জড়িয়ে মাঠে উদ্যাপন করেন পায়োর। পাঁচ ফাইনালের দুঃস্বপ্ন, বারবারের হতাশা, নিজের ওপর প্রশ্ন, সবকিছুর জবাব যেন মিলল সেই দৃশ্যে।
পায়োরের ভাষায়, পাঁচটি ফাইনাল হারাটা কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি কখনও হাল ছাড়েননি, দলের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে গেছেন। সেই অপেক্ষার পুরস্কারই পেলেন অসলোতে। বার্সেলোনার জার্সিতে, নিজের ষষ্ঠ ফাইনালে, অবশেষে তাঁর হাতে উঠল কাঙ্ক্ষিত সোনার পদক।
