প্রথমার্ধেই দুই গোল পিছিয়ে বাংলাদেশ

ইতিহাসের মঞ্চে লড়াইটা ছিল কঠিন আর প্রথমার্ধেই তার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠল। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে দারুণ প্রতিরোধ গড়েও বিরতিতে ২–০ গোলে পিছিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছে চীন। হাইলাইন ডিফেন্স রেখে বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করে তারা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই পায় প্রথম কর্নার। যদিও সেটি থেকে তাৎক্ষণিক বিপদ হয়নি, তবে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে থাকে এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দলটি।
সপ্তম মিনিটের মধ্যেই উইং ধরে কয়েকটি আক্রমণ সাজায় চীন। নবীরন খাতুনের দৃঢ় ট্যাকলে একটি কর্নার হলেও সেখান থেকে গোল আসেনি। ১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন চীনের লু ইয়াটং।
১৪ মিনিটে বাংলাদেশের সেরা সুযোগ আসে। বাঁ প্রান্তে জায়গা পেয়ে ঋতুপর্ণা চাকমা দূরপাল্লার শট নেন। বলটি জালে ঢোকার মুখে লাফিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক চেন চেন—অল্পের জন্য এগিয়ে যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের।
এরপর ১৮ মিনিটে বক্সের ভেতর জটলায় শট নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। গোলরক্ষক মিলি আক্তার বাধা দিলেও বল প্রায় লাইনে ঢুকে যাচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়ে ক্লিয়ার করে দলকে বাঁচান শিউলি আজিম।
২৪ মিনিটে জিন কুনের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ওয়াং সুয়াং। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়। প্রায় চার মিনিট পর রেফারি রিপ্লে দেখে গোল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। তখনও স্কোরলাইন ০–০।
বাংলাদেশ মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠলেও শারীরিক শক্তি ও উচ্চতাতে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিল।
৪১ মিনিটে মনিকা চাকমার কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিতে পারেননি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের গতি বদলে যায়। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ ভাসানো শটে গোল করে চীনকে এগিয়ে দেন ওয়াং সুয়াং। দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ানো সেই শটে মিলির পক্ষে কিছু করার ছিল না।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন চীনের লিউ জিং—বল উড়িয়ে মারেন পোস্টের ওপর দিয়ে। ততক্ষণে প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি।
১৯৮০ সালের পর এই প্রথম কোনো এশিয়ান কাপে খেলছে বাংলাদেশ (নারী দলের ক্ষেত্রে এটাই প্রথম অংশগ্রহণ)। ৪৬ বছর পর মহাদেশীয় আসরে ফিরে লাল–সবুজের মেয়েরা প্রথমার্ধে সাহসী লড়াইয়ের আভাস দিলেও শেষ মুহূর্তের দুটি গোল ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে।