ইনফান্তিনোর সামনে দুই পথ, জানালেন সেফেরিন

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায় তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনের নাম আলোচনায় এলেও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তবে ২০২৭ সালের মার্চে ইনফান্তিনোকে অন্য কোনো প্রার্থীর মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা তার।
ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। প্রবল বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও ফিফা সভাপতির ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপের বেশ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ইতিমধ্যে তার ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
ইনফান্তিনোর জায়গায় ফিফা সভাপতি হওয়ার আগ্রহ আছে কি না, ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে এমন প্রশ্নের উত্তরে সেফেরিন বলেন, ‘দুটি কারণে আমি আগ্রহী নই। আমি উয়েফাকে ভালোবাসি এবং এখানে কাজ করাটা উপভোগ করি। একটা সময় জীবনটাও উপভোগ করা প্রয়োজন।’
নিজে প্রার্থী না হলে ইনফান্তিনোর সমালোচনায় তার অবস্থান আরও বিশ্বাসযোগ্য থাকবে বলেও মনে করেন উয়েফা সভাপতি।
সেফেরিনের মতে, ইনফান্তিনোর সামনে দুটি পথ রয়েছে। ফুটবলসংশ্লিষ্টদের সমর্থন হারানোর বিষয়টি বুঝে তিনি নিজে সরে যেতে পারেন। আর নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
সেফেরিন বলেন, ‘তিনি যদি মার্চের নির্বাচনে যান, আমার মনে হয় তার বিপক্ষে একজন প্রার্থী থাকবেন। সেই ব্যক্তি কে, তা এখনো জানি না।’
ফিফার প্রস্তাবিত নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির স্বত্ব পরিচালনা করত। প্রতিষ্ঠানটির ২১ শতাংশ মালিকানা একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
উয়েফার নেতৃত্বে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ইউরোপীয় সংস্থাটির সদস্যরা প্রস্তাবটি বাতিল না হলে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিল। উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভাঙার অভিযোগও তোলা হয়।
সেফেরিন প্রস্তাবটিকে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ পরিকল্পনার চেয়েও ভয়ংকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুপার লিগ ফুটবলকে ধ্বংস করে দিতে পারত। কিন্তু এই পরিকল্পনায় ফুটবলকেই বিক্রি করে দেওয়া হতো।’
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল ও আফ্রিকার সিএএফ এখনো তার পাশে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সেফেরিন। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ফোন করার ঘটনাকে তিনি ‘বিস্ময়কর’ বলেছেন।
সব মিলিয়ে আগামী মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়ার আভাসই দিয়েছেন উয়েফা সভাপতি। তিনি নিজে লড়বেন না, তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইনফান্তিনোর আবারও নির্বাচিত হওয়ার পথ এবার সহজ দেখছেন না।



-591ad3.webp)