আলভারেজ ফিরলেও তিন গোলে বিধ্বস্ত আতলেটিকো

অসুস্থতা ও বার্সায় যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা কাটিয়ে দলে ফিরেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। তবে আর্জেন্টাইন তারকার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটা সুখকর হলো না আতলেটিকো মাদ্রিদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে ছিটকে যায় দিয়েগো সিমিওনের দল। শেষ পর্যন্ত অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আতলেটিকো।
শনিবার সান মামেসে লা লিগার চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে বিলবাওয়ের হয়ে গোল করেছেন নিকো উইলিয়ামস, রবার্ট নাভারো ও ওইহান সানসেত। চলতি লিগে এটি আতলেটিকোর প্রথম হার। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল অ্যাথলেটিক।
স্কোরলাইন অবশ্য প্রথমার্ধের গল্প পুরোটা বলছে না। ম্যাচের শুরুতে বরং এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছিল আতলেটিকো। তৃতীয় মিনিটেই লি কাং-ইনের আড়াআড়ি শট পোস্টে লেগে গোললাইন ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে পাবলো বারিওসের শটও পোস্টে বাধা পায়। ফলে ভালো খেলেও গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যেতে হয় অতিথিদের।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় বিলবাও। ৪৬ মিনিটে ইনাকি উইলিয়ামসের শট থেকে আসা বল কাছ থেকে হেডে জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তার ছোট ভাই নিকো উইলিয়ামস।
প্রথম ধাক্কা সামলানোর আগেই আরেকটি গোল হজম করে আতলেটিকো। ৪৮ মিনিটে ইনাকির বাড়ানো বল পেয়ে আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোকে কাটিয়ে নিচু শটে ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করেন রবার্ট নাভারো। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে সিমিওনের দল।
পরিস্থিতি বদলাতে একসঙ্গে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন সিমিওনে। মাঠে নামান আলভারেজ, কোকেসহ কয়েকজনকে। টটেনহাম থেকে যোগ দেওয়া ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরোরও আতলেটিকোর হয়ে অভিষেক হয় এই ম্যাচে।
গ্রীষ্মের দলবদলে বার্সেলোনায় যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এটি ছিল আলভারেজের মাঠে ফেরার ম্যাচ। অসুস্থতার কারণে আগের সপ্তাহে সেভিয়ার বিপক্ষে আতলেটিকোর ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
বদলি হয়ে নেমে সক্রিয়ও ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড। ৭০ মিনিটে বক্সের ভেতর ঘুরে নেওয়া তার শট ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমোন। দ্বিতীয়ার্ধে এটিই ছিল আতলেটিকোর সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগ। তবে এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মাদ্রিদের দলটি।
বরং শেষ মুহূর্তে ব্যবধান আরও বাড়ায় অ্যাথলেটিক। ৯০ মিনিটে বেনাত গেরেনাবারেনার ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন সানসেত। নিশ্চিত হয় আতলেটিকোর ৩-০ গোলের হার। ২০১৩ সালের জানুয়ারির পর লিগে আতলেটিকোর বিপক্ষে এটিই বিলবাওয়ের সবচেয়ে বড় জয়।
ম্যাচ শেষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর ওই কয়েক মিনিটকেই হারের কারণ হিসেবে দেখেছেন সিমিওনে। আতলেটিকো কোচ বলেন, ‘প্রথমার্ধ আমাদের খুব ভালো ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচটা আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। আসলে দুই মিনিটই সবকিছু বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।’
এই হার ভুলে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াতে হবে আতলেটিকোকে। কারণ বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের অপেক্ষায় লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে ইউরোপীয় অভিযান শুরুর আগে বিলবাওয়ের মাঠে এমন হার তাই সিমিওনের দলের জন্য বড় সতর্কবার্তাই হয়ে থাকল।



-1859de.webp)