logo

রোনালদোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল, জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শুরু

রোনালদোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল, জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শুরু
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: এএস

কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এবার সেই ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাপ্রক্রিয়া শুরু করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। জরুরি ভিত্তিতে তদন্তও চলছে। তবে চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এর মধ্যেই ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ককে দ্রুত জাতীয় দলে ফেরানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাপ্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা পরিষদ। ফেডারেশন জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রোনালদোর আচরণ শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরদিন বিষয়টি শৃঙ্খলা তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই স্বয়ংক্রিয় সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন রোনালদো। এবার তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে প্রতিরোধমূলক সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তকে জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফেডারেশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা পর্তুগাল জাতীয় দলের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্লাব ফুটবলে রোনালদোর খেলার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসে ছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে তাঁকে না খেলানোর বিষয়ে কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু নরওয়ে ম্যাচের দিন কোচ তাঁকে ৩০ মিনিট খেলানোর প্রতিশ্রুতি দেন। সেই আশ্বাসও শেষ পর্যন্ত রাখেননি।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের মধ্যে আগে থেকে ঠিক করা বক্তব্য তুলে ধরার প্রতিশ্রুতিও কোচ ভেঙেছেন বলে অভিযোগ রোনালদোর। এই দুটি ঘটনার পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন রোনালদো। সেখানে কোচের বিরুদ্ধে দুবার কথা না রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে সতীর্থদের ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সমর্থকদের যথাযথভাবে অভিবাদন না জানানোর জন্য ক্ষমাও চান পর্তুগিজ অধিনায়ক।

তবে জেসুস রোনালদোর সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না বাড়িয়ে কাজে মনোযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন পর্তুগালের কোচ।

রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাপ্রক্রিয়া শুরু হলেও তাকে জাতীয় দলে ফেরাতে আগ্রহী পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। শনিবার পোর্তোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা জানান, বিষয়টি মিটিয়ে অধিনায়ককে যত দ্রুত সম্ভব দলে ফেরানোই তাঁদের প্রত্যাশা।

প্রোয়েন্সা বলেন, ‘আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের অধিনায়ক জাতীয় দলে ফিরে আসুক। কোচও জানিয়েছেন, খেলার মতো অবস্থায় থাকলে রোনালদোকে দলে চান তিনি। রোনালদো নিজেও ফিরতে আগ্রহী। সবার চাওয়া একই। এখন শান্ত থাকার সময়।’

তবে শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেশন সভাপতির হাতে নেই। প্রোয়েন্সা স্পষ্ট করেছেন, শৃঙ্খলা পরিষদ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি শৃঙ্খলা পরিষদের ওপর নির্ভর করছে। তারা স্বাধীন সংস্থা এবং নিজেদের কাজ করবে। আমরা এখন পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্পের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও আগের বিবৃতিতে অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন রোনালদো। জানিয়েছিলেন, এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা নেই তাঁর। সম্ভাব্য শাস্তি শেষে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেললে পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নামতে চান তিনি।

বিদায়ী ম্যাচ নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার মতে, বিদায়ী ম্যাচের সময় পরে আসবে। আপাতত জাতীয় দলে ফিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং পর্তুগালের হয়ে আরও সাফল্য অর্জনই তার লক্ষ্য।

রোনালদোর সঙ্গে দ্বন্দ্বের মধ্যেও মাঠে সাফল্য ধরে রেখেছে পর্তুগাল। নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের অধীনে প্রথম চার ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে দলটি। ফেডারেশন সভাপতি প্রোয়েন্সাও এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, বিতর্কের মধ্যেও দলের মনোযোগ ফুটবলে ধরে রাখাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।