লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হামজা, ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে খেলতে প্রথমার্ধেই দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হামজা চৌধুরীকে। বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে হারিয়েও দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়েছিল তার দল শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে যায় তারা।
শুধু পরাজয় নয় লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায়ও পড়েছেন হামজা। আর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোররাতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের মাঠ ফ্রাটন পার্কে ৩-২ গোলে হারে শেফিল্ড ইউনাইটেড। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হামজা। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, একই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হলে সাধারণত এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। ফলে আগামী শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ডের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে পোর্টসমাউথের রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। এর ৯ মিনিট পর আবারও একই ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান তিনি। হামজার দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল বের করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কাভুমা-ম্যাককুইন। এরপর হামজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান তিনি। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড সেটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশি ফুটবলারকে।
তবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি শেফিল্ড কোচ ওয়াইল্ডার। ম্যাচ শেষে রেফারির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হামজা তাহলে কোথায় যাবে? বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আমাকে ভীষণ হতাশ করেছে।’
রেফারিদের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেফিল্ড কোচ। তার ভাষায়, ‘চ্যাম্পিয়নশিপে তরুণ ও সম্ভাবনাময় রেফারিরা কোথায়? যারা কোনোভাবে টিকে আছে, তাদের বদলে নতুনরা কেন সুযোগ পাচ্ছে না? মানসম্পন্ন রেফারিরা কোথায়?’
ওয়াইল্ডার আরও জানান, ল্যাংফোর্ডের পরিচালনায় শেফিল্ডের সর্বশেষ দুই ম্যাচে তার দলের তিনজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে রেফারির সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রতি অবিচার হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
হামজার লাল কার্ডের আগেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল শেফিল্ড। ৪১ মিনিটে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে পোর্টসমাউথকে এগিয়ে দেন জ্যাক সোয়ানসন। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে আদ্রিয়ান সেগেচিচের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি দশজনের শেফিল্ড। ৫৯ মিনিটে জাফেট টাঙ্গাঙ্গার গোলে ব্যবধান কমায় সফরকারীরা। আট মিনিট পর টম ক্যাননের হেডে সমতায় ফেরে তারা।
তবে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্টও পাওয়া হয়নি শেফিল্ডের। ৮৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এবু অ্যাডামসের গোলে জয় নিশ্চিত করে পোর্টসমাউথ।
ম্যাচ শেষে শিষ্যদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করলেও রেফারিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ওয়াইল্ডার। তার মতে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরও এমন হার মেনে নেওয়া কঠিন।
আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিস্টল সিটির মাঠে খেলবে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে সেই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে হামজাকে পাচ্ছেন না ওয়াইল্ডার।
