logo

নেইমারকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে আনচেলত্তি

নেইমারকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে আনচেলত্তি
কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমার জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার বাকি মাত্র এক দিন। দল ঘোষণার সেই মুহূর্তের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই সেলেসাওদের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার থাকবেন তো সেই দলে? দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ড্রেসিংরুমে জনপ্রিয়, সমর্থকদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু; কিন্তু একই সঙ্গে দীর্ঘ চোটের ইতিহাস, ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন এবং বিশ্বকাপের মতো উচ্চতর গতির টুর্নামেন্টে তার শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশয়। সব মিলিয়ে কঠিন এক সিদ্ধান্তের সামনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

সোমবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। তার আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারকে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ইতালিয়ান কোচ। তিনি জানালেন, নেইমারের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সব দিক বিবেচনা করেই।

আনচেলত্তি বলেন, ‘আপনাকে যখন বেছে নিতে হয়, তখন অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। নেইমার এই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, কারণ সে সব সময় যে প্রতিভা দেখিয়েছে। কিন্তু তার সমস্যা ছিল এবং সে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সে অনেক উন্নতি করেছে, নিয়মিত খেলছে। সিদ্ধান্তটা আমার জন্য সহজ নয়। আমাদের ভালোমন্দ সব দিক খুব সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হবে।’

নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিলে জনমতও বিভক্ত। একপক্ষ মনে করে, পুরোপুরি ফিট না হলেও এমন অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপে নেওয়া উচিত। অন্য পক্ষের যুক্তি, আবেগ নয়, বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেসই হওয়া উচিত নির্বাচনের একমাত্র ভিত্তি।

আনচেলত্তি অবশ্য ড্রেসিংরুমের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, নেইমার শুধু সমর্থকদের কাছেই নন, সতীর্থদের কাছেও খুব প্রিয়। তাই তাকে দলে নেওয়া হলে সেটি ড্রেসিংরুমে কোনো অস্বস্তি তৈরি করবে না, বরং ইতিবাচক আবহই তৈরি করতে পারে।

ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আমি খুব ভালো করেই জানি, নেইমার শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই নয়, খেলোয়াড়দের কাছেও খুব প্রিয়। এটাও একটা বিষয়, কারণ নেইমারের ডাক পাওয়া ঘিরে কেমন পরিবেশ তৈরি হবে, সেটাও ভাবতে হয়। এমন নয় যে আমি ড্রেসিংরুমে কোনো বোমা ফেলতে যাচ্ছি। সে খুব পছন্দের, খুব ভালোবাসার একজন।’

তবে সতীর্থদের মতামত বা জনমতের চাপে সিদ্ধান্ত নেবেন না বলেও পরিষ্কার করেছেন আনচেলত্তি। তার দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তার আছে এবং নেইমারকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শতভাগ পেশাদার।

আনচেলত্তির ভাষায়, ‘খেলোয়াড়রা মতামত দেবে, এটা স্বাভাবিক। যারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছে, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক ব্যক্তি আমি। নেইমারকে ডাকার জন্য কেউ আমাকে চাপ দেয়নি। আমার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। সিদ্ধান্তটা শতভাগ পেশাদার হবে। ফুটবলার হিসেবে সে কেমন করছে, সেটাই শুধু বিবেচনায় নেব।’

নেইমারের সাম্প্রতিক ফিটনেস নিয়ে ইতিবাচক কথাও বলেছেন আনচেলত্তি। তার মতে, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে নেইমার শারীরিকভাবে উন্নতি দেখিয়েছেন এবং ম্যাচে উচ্চ তীব্রতা ধরে রাখার সামর্থ্যও দেখিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের বাস্তবতা আলাদা, আর সেই কারণেই সিদ্ধান্ত সহজ নয়।

আনচেলত্তি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার ফিটনেস অনেক উন্নত হয়েছে। সে ভালো কিছু ম্যাচ খেলেছে। ম্যাচে উচ্চ তীব্রতা ধরে রাখতে পারছে। কিন্তু ম্যাচ তো এক রকম নয়, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ম্যাচ আছে।’

ব্রাজিলের মতো দেশে বিশ্বকাপ দল নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। আনচেলত্তিও জানেন, যে দলই ঘোষণা করুন, সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হবে না। তবে নিজের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখছেন তিনি।

‘আমি কি নিখুঁত দল বানাতে পারব? অসম্ভব। কিন্তু অন্য কেউ করলে যত ভুল হতে পারে, তার চেয়ে কম ভুল নিয়ে একটা দল বানাতে পারব এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত,’ বলেছেন আনচেলত্তি।

নেইমার থাকবেন কি না, সেই উত্তর মিলবে সোমবার। কিন্তু তার আগেই বোঝা যাচ্ছে, সিদ্ধান্তটি যাই হোক তা নিয়ে বিতর্ক হবেই।