logo

গোলকিপারের হেডে শেষ অপমান, প্লে-অফে ছিটকে গেল রিয়াল

গোলকিপারের হেডে শেষ অপমান, প্লে-অফে ছিটকে গেল রিয়াল

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে যেতে একটি ড্র হলেই হতো। কিন্তু লিসবনে লস ব্লাঙ্কোসদের ইউরোপীয় অভিযান বড়সড় ধাক্কাই খেল। বেনফিকার বিপক্ষে ভয়াবহ এক রাত শেষে টপ-এইটের স্বপ্ন ভেঙে প্লে-অফে নামতে হচ্ছে আলভারো আরবেলোয়ার দলকে। স্কোরলাইনে এমবাপ্পের জোড়া গোল কিছুটা স্বস্তি দিলেও মাঠের বাস্তবতায় বেনফিকাই ছিল পরিষ্কারভাবে শ্রেষ্ঠ।

ম্যাচের শুরু থেকেই কোচ হোসে মরিনহোর ছক কাজে লাগায় স্বাগতিকরা— হাই প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন ও সরাসরি আক্রমণ। রিয়ালের রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়েছে, মাঝমাঠে তীব্রতার লড়াইয়ে পিছিয়েছে তারা। প্রথম গোল আসে ডিফেন্সিভ রিবাউন্ড থেকে, এরপর একের পর এক সুযোগ তৈরি করে বেনফিকা— পাভলিদিস, প্রেস্টিয়ানি ও আওরসনেস সবাই রিয়ালের বক্সে আতঙ্ক ছড়ান। থিবো কুর্তোয়া কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

ঝড়ের ভেতর হঠাৎ ঝলক এমবাপ্পে। ডান দিক থেকে আসেনসিওর নিখুঁত ক্রসে ফরাসি তারকা হেডে গোল করে ম্যাচে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। কিন্তু সেই আশার আলো দ্রুত নিভে যায়। পাল্টা আক্রমণে আসেনসিওর স্লিপের সুযোগ নিয়ে পাভলিদিসের ক্রস থেকে শেল্ডেরুপ সহজ হেডে গোল করে সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে বিতর্কিত পেনাল্টিতে পাভলিদিস আবারও জাল কাঁপান— লিসবনের লিড তখন ২-১।

দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্র বদলায়নি। রিয়ালের দখলে বল থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না; বল হারালেই ভয়ংকর কাউন্টারে ভুগেছে তারা। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে শেল্ডেরুপের দ্বিতীয় শটে পোস্ট কাঁপে, আর ঠিক তার পরপরই গুলেরের ক্রসে এমবাপ্পের নিখুঁত ফিনিশ— স্কোরলাইনে আবার রিয়ালের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত। কিন্তু সেটাও ছিল ক্ষণস্থায়ী।

উল্টো যেখানে রিয়ালের উঠে পড়ে আক্রমণ করার কথা সেখানে খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেনফিকা হাতে নিয়ে নেয়। রিয়ালের বড় তারকারা প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন, বদল নামিয়েও আরবেলোয়া গতি ফেরাতে পারেননি। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে দুটি লাল কার্ড— যোগ করা সময়ে আসেনসিও ও রদ্রিগো মাঠ ছাড়েন। আর শেষ নাটকীয় মুহূর্তে বেনফিকার গোলরক্ষক ত্রুবিন কর্নার থেকে উঠে হেডে গোল করে রাতের চূড়ান্ত অপমান নিশ্চিত করেন।

এই পরাজয় শুধু পয়েন্ট টেবিলের ধাক্কা নয়, আত্মবিশ্বাসের বড় ক্ষতও। রিয়ালের রক্ষণভাগের নড়বড়ে অবস্থা, তীব্রতার ঘাটতি এবং শৃঙ্খলাজনিত সমস্যাগুলো স্পষ্ট করে দিল— এই রূপে থাকলে ইউরোপের বড় মঞ্চে পথ যে আরও কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটাই বার্তা দিল লিসবনের বৃষ্টি-ভেজা রাত।