logo

মরিনহোর দলের খেলা দেখে আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল ম্যানসিটি : গার্দিওলা

মরিনহোর দলের খেলা দেখে আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল ম্যানসিটি : গার্দিওলা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ মুহূর্তের নাটক শুধু রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকাকেই প্রভাবিত করেনি— তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ম্যানচেস্টার সিটির ওপরও। হোসে মরিনহোর সাহসী কৌশলে বেনফিকার জয় নিশ্চিত হওয়ার সময় সিটি ড্রেসিংরুমে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন কোচ পেপ গার্দিওলা।

লিসবনে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বেনফিকার ম্যাচের শেষ মিনিটগুলো ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা ড্রেসিংরুমে বসে দেখছিলেন। ওই সময়ে রিয়াল যদি শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরাতে পারত, তাহলে ৩–৩ ড্রয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টপ এইট থেকে ছিটকে পড়ত সিটি।

তবে ৯৮তম মিনিটে মরিনহোর নির্দেশে গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিন প্রতিপক্ষের বক্সে উঠে গিয়ে হেডে গোল করলে ম্যাচের ভাগ্য চূড়ান্ত হয়ে যায়। ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ফলে বেনফিকা প্লে-অফ নিশ্চিত করে এবং একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটি লিগ টেবিলের অষ্টম স্থানে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠার সুযোগ পায়।

গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা সবাই ড্রেসিংরুমে ছিলাম। আমরা জানতাম না বেনফিকার আরেকটি গোল দরকার। যখন দেখি গোলকিপার সামনে যাচ্ছে, তখন ভাবছিলাম— ‘তুমি কেন উঠছ?’ কারণ রিয়াল গোল করলে আমরা বিপদে পড়তাম।’

তবে শেষ পর্যন্ত মরিনহোর কৌশল যে সফল হয়েছে, সেটিও স্বীকার করেন সিটি কোচ। তিনি যোগ করেন, “হোসের জন্য এটা যে ভালো কৌশল ছিল, সেটা এখন পরিষ্কার— চতুর্থ গোলটাই সবকিছু বদলে দিল।’

ম্যাচ শেষে মরিনহোকে ধন্যবাদ জানাবেন কি না— এমন প্রশ্নে গার্দিওলা হাসতে হাসতে বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই।”

বেনফিকা-রিয়াল ম্যাচের নাটকীয়তা সত্ত্বেও নিজেদের কাজ ঠিকই করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তারা গালাতাসারাইকে ২–০ গোলে হারায়। আর্লিং হলান্ড ও রায়ান চেরকির গোলে জয় পায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।

তবে সিটির জন্য পুরোপুরি সুখবর ছিল না। ম্যাচে দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করা জেরেমি দোকু কাফের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন, যা কোচিং স্টাফদের কিছুটা উদ্বিগ্ন করেছে।

গার্দিওলা বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা দ্বিতীয়ার্ধের চেয়ে ভালো খেলেছি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আগের চেয়ে অনেক কঠিন। এখন প্রতিটি দলই শক্তিশালী।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্লে-অফ না খেলেই শেষ ষোলোতে ওঠা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি। আশা করছি মার্চে নকআউট পর্বে আমরা সেরা অবস্থায় পৌঁছাতে পারব।’