বিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকার আহ্বান সাবেক ফিফা সভাপতির

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্ক বাড়ছেই। এবার বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। তিনি সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের আহ্বানকে সমর্থন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের নেওয়া বিতর্কিত নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র আয়োজক দেশ হিসেবে উপযুক্ত কি না, সে প্রশ্নই আবার সামনে আনলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্লাটার সুইস আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ মার্ক পিয়েথের মন্তব্য সমর্থন করেন। পিয়েথ এক সুইস সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে টিভিতে বিশ্বকাপ দেখা।
ব্লাটার তার পোস্টে পিয়েথের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমি মনে করি, মার্ক পিয়েথ এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সঠিক।’
ফুটবল মহলের একটি অংশের উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, এবং বিদেশনীতি ঘিরে আগ্রাসী অবস্থান। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে সেনেগাল ও আইভরি কোস্টসহ আফ্রিকার একাধিক দেশের সমর্থকদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে বড় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। একইভাবে ইরান ও হাইতির সমর্থকরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে সমস্যায় পড়ছেন।
জার্মান ফুটবল কর্মকর্তার বয়কট ভাবনা
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওকে গ্যোটলিশও সম্প্রতি বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে ‘গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবল মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
টিকিটের দাম নিয়েও ক্ষোভ
এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে টিকিটের অস্বাভাবিক দামের কারণে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির একটি টিকিটের মূল্য তালিকাভুক্ত হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৬৮০ মার্কিন ডলার, যা অনেক সমর্থকের নাগালের বাইরে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, পুনরায় বিক্রির বাজারে টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে।
ব্লাটারের মন্তব্যের জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে এবং বিশ্বকাপ ঘিরে উদযাপন চলবেই। তার মতে, সব বিতর্কের মাঝেও সমর্থকরা মাঠে গিয়ে ফুটবল উপভোগ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা ইস্যু মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ যে মাঠের বাইরে আরও বড় আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে—তা এখনই স্পষ্ট।