এলচের মাঠে জিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখল বার্সা

লা লিগার ২২তম ম্যাচডে’তে এলচের মাঠ মার্তিনেজ ভালেরো স্টেডিয়ামে দারুণ লড়াইয়ের পর ৩–১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। সাহসী ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত কাতালান জায়ান্টদের আক্রমণভাগের সামনে টিকতে পারেনি স্বাগতিক এলচে। এই জয়ে লিগের শীর্ষস্থান আরও এক সপ্তাহের জন্য ধরে রাখল হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এলচে গোলরক্ষক ইনাকি পেনার এক মুহূর্তের দ্বিধাকে কাজে লাগিয়ে সহজেই বল জালে জড়ান তিনি। গোলটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও ম্যাচে সেটিই বার্সেলোনাকে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
তবে এলচেও দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে। ২৯তম মিনিটে বার্সার হাই ডিফেন্স লাইনের সুযোগ নিয়ে আলভারো রদ্রিগেজ দুর্দান্ত এক নিচু শটে সমতায় ফেরান স্বাগতিকদের। গোলের পর দুই দলই আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে জমিয়ে তোলে ম্যাচের গতি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও লিড নেয় বার্সা। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে ৪০তম মিনিটে ফেরান তোরেস ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের পাস থেকে কাছ থেকে গোল করে দলকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধেই বার্সেলোনা আরও কয়েকটি পরিষ্কার সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র প্রায় একই থাকে। এলচে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার পাল্টা আক্রমণ ছিল বেশি ধারালো। ৭২তম মিনিটে ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত করেন মার্কাস রাশফোর্ড। লামিনে ইয়ামালের চমৎকার একক প্রচেষ্টার পর বল পেয়ে নির্ভুল শটে জাল খুঁজে নেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচজুড়ে বার্সেলোনা অসংখ্য সুযোগ তৈরি করলেও গোলসংখ্যা আরও বড় হতে পারত। অন্যদিকে সাহসী কৌশল নিয়ে খেলতে গিয়ে বারবার রক্ষণে ফাঁক রেখে দেয় এলচে, যার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।
এই ম্যাচে কিছুটা দুশ্চিন্তার খবরও আছে বার্সার জন্য। রাফিনিয়া ও জুল কুন্দে দুজনকেই চোটের কারণে বদলি করতে হয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে দলের জন্য চিন্তার বিষয় হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন আর বদলায়নি। কঠিন এক অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে লিগের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রাখল বার্সেলোনা, আর সাহসী ফুটবল খেলেও পয়েন্টহীন মাঠ ছাড়তে হলো এলচেকে।