পতাকা বিতর্কে ইয়ামাল-পেদ্রিদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সা

ঘরের মাঠে মৌসুমের প্রথম ম্যাচ। পরিকল্পনা ছিল স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা আট ফুটবলারকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার। কিন্তু কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী পতাকা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে সেই আয়োজন বাতিল করেছে বার্সেলোনা।
অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে ক্যাম্প ন্যুর বাইরে সমর্থকদের মধ্যে কাতালান স্বাধীনতার প্রতীক ‘এস্তেলাদা’র প্রায় ১০ হাজার ছোট পতাকা বিতরণ করে একটি স্থানীয় সংগঠন। বড় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে স্টেডিয়ামের আশপাশে মিছিলও করেন কয়েক হাজার সমর্থক। পরে বার্সেলোনার সংগীত বাজার সময় গ্যালারিজুড়ে উড়িয়ে ধরা হয় পতাকাগুলো।
এই কর্মসূচি সরাসরি আয়োজন করেনি বার্সেলোনা। তবে ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাটির প্রশংসা করেন। তার মতে, এটি কাতালানদের মতপ্রকাশের অধিকারেরই অংশ।
বিতর্কের শুরু আগের সপ্তাহে এলচের মাঠে বার্সেলোনার ম্যাচের আগে। স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় এক তরুণ সমর্থকের কাছ থেকে এস্তেলাদা পতাকা কেড়ে নেয় পুলিশ। প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে লাঠিপেটা করে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বার্সেলোনা বলেছিল, এস্তেলাদা আইনিভাবে স্বীকৃত একটি প্রতীক এবং এটি প্রদর্শন করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ অনুশীলন। পতাকাটি নিজে থেকে ঘৃণা কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রতীক নয় বলেও জানায় ক্লাবটি। ওই সমর্থককে আটকের পদ্ধতি ও পুলিশের বলপ্রয়োগকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছিল বার্সা।
এর মধ্যেই স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্য স্প্যানিশ ক্লাবগুলো নিজেদের বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা দিয়েছে। সেসব আয়োজনে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
কিন্তু কাতালান পতাকা নিয়ে তৈরি উত্তেজনার মধ্যে এমন আয়োজনের সময়টি উপযুক্ত নয় বলে মনে করেছেন লাপোর্তা। বার্সা সভাপতি বলেন, ‘ফুটবলের কাজ মানুষকে এক করা, সংঘাত তৈরি করা নয়।’ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনও ক্লাবের অবস্থান বুঝতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত মাসে স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতানো দলে বার্সেলোনার আট ফুটবলার ছিলেন। তারা হলেন হোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবারসি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো ও লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়ের সংখ্যায় অন্য যেকোনো ক্লাবের চেয়ে এগিয়ে বার্সেলোনা।
ক্যাম্প ন্যুতে তাই বিশ্বজয়ের উৎসব হওয়ার কথা থাকলেও রাতটি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল কাতালান পরিচয় ও মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে পতাকা ওড়ানোর উপলক্ষ।



