Advertisement

পদত্যাগের চাপে ইনফান্তিনো, পাল্টা আক্রমণে ফিফা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
পদত্যাগের চাপে ইনফান্তিনো, পাল্টা আক্রমণে ফিফা
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: গেটি ইমেজ

সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে হারাতে না পেরে অভিযোগ, ইঙ্গিত ও ভুল তথ্যের মাধ্যমে তাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। ফিফার পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। এরপর শনিবার রাতে দেওয়া বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবিরও কঠোর সমালোচনা করে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের দেওয়া ম্যান্ডেট নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু কিছু পক্ষ ধারাবাহিকভাবে ফিফা ও এর সভাপতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়তে শুরু করে বিতর্কিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ বা এফএফই প্রকল্পকে ঘিরে। এই প্রকল্পের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির স্বত্ব পরিচালনায় নতুন কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই কোম্পানির ২১ শতাংশ মালিকানা একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল।

তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটি বাতিল করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে এতে সংকট কাটেনি। উয়েফা জানিয়েছে, ফিফা সভাপতির ওপর তাদের আস্থা নেই। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি আবার চালু করা হবে না, এমন নিশ্চয়তাও তারা পায়নি। তাই ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি এখনো বহাল রেখেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিরোধিতা এখনো মূলত ইউরোপেই সীমাবদ্ধ।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল জানিয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর যেকোনো চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করবে। একই অবস্থান নিয়েছে মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশন। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ৫৪ সদস্য দেশও সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে।

ফিফার বক্তব্য, সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য। তবে সমালোচনার নামে তথ্য বিকৃতি, প্রমাণহীন অভিযোগ প্রচার কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে তা সরাসরি ও কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।