ম্যানসিটিকে বিদায় বলার কারণ জানালেন গার্দিওলা

ট্রফি জিততে জিততে মানুষ কখনও কখনও ক্লান্তও হয়ে যায়। কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলার বিদায়ের গল্পটা তেমনই। ম্যানচেস্টার সিটিকে এক দশকে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর একটিতে পরিণত করা এই কোচ জানালেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা হারিয়ে নয়, নিজের ভেতরের জ্বালানিটা কমে আসছে বুঝেই তিনি থামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার (২৪ মে) অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে সিটির ডাগআউটে গার্দিওলার অধ্যায়। শুক্রবার ক্লাব তার বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে ৫৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ বলেন, যে শক্তি নিয়ে এতদিন কাজ করেছেন, সামনে সেই শক্তি আর থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। প্রতি তিন দিন পরপর ম্যাচ, শিরোপার চাপ, খেলোয়াড়দের সামনে একই তীব্রতায় দাঁড়িয়ে থাকা, সব মিলিয়ে এই কাজের যে আগুন দরকার, সেটি ভবিষ্যতে ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি।
গার্দিওলা নিজেই বললেন, নিজের সঙ্গে সৎ থাকতে হয়েছে তাঁকে। শুধু নিজের সঙ্গে নয়, সেই ক্লাবের সঙ্গেও, যে ক্লাব তাঁকে সব দিয়েছে। শুক্রবার সকালে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তটি জানাতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি। তার ভাষায়, সেই বক্তব্য ছিল ‘ডিজাস্টার’; আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নার্ভাস ছিলেন তিনি।
সিটির জন্য রোববারের ম্যাচের টেবিলগত গুরুত্ব খুব বেশি নেই। সিটি আর লিগ শিরোপায় আর্সেনালকে ছুঁতে পারবে না, অ্যাস্টন ভিলাও চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ইত্তিহাদে বিকেলটা হবে অন্য কারণে বড়, সেটি হবে বিদায়ের দিন। এমন এক কোচকে বিদায় জানাবে সিটি, যাঁর হাতে এক দশকে বদলে গেছে ক্লাবের পরিচয়।
গার্দিওলার অধীনে সিটি জিতেছে ২০টি ট্রফি। এসেছে টানা চার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার মতো আধিপত্যের নজির। ইংল্যান্ডে প্রতিপক্ষকে শুধু হারানো নয়, ফুটবল কীভাবে খেলতে হয়, সেটির মানদণ্ডও বদলে দিয়েছিলেন তিনি। পজিশনাল প্লে, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নির্মম প্রেসিং, স্কোয়াড রোটেশন, সব মিলিয়ে সিটির ফুটবল হয়ে উঠেছিল আধুনিক ক্লাব ফুটবলের এক পাঠ্যবই।
তবু গার্দিওলা মনে করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে খুব বেশি দিন একই মুখ থাকা সব সময় ভালো নয়। নতুন ভাবনা, নতুন মানুষ, নতুন নড়াচড়া দরকার। তার মতে, ১০ বছর পর সময়টা এসে গেছে। এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব নয়, বরং চক্র পূর্ণ হওয়ার স্বীকৃতি।
চলতি মৌসুমকেও ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না গার্দিওলা। আর্সেনালের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই, এফএ কাপ ও লিগ কাপ জেতা, প্রতি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সব মিলিয়ে মৌসুমটিকে নিজের সিটি অধ্যায়ের অন্যতম সন্তোষজনক বলে মনে করছেন তিনি। তার চোখে, বিদায়ের জন্য এটাই ‘পারফেক্ট মোমেন্ট’।
এখন কী করবেন গার্দিওলা? উত্তরটা আপাতত সহজ, বিশ্রাম। ফুটবল থেকে দূরে থাকতে চান তিনি। শিগগিরই অন্য কোনো দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সেলহার্স্ট পার্ক, অ্যানফিল্ড, মাদ্রিদ, এফএ কাপের ব্যস্ততা, এত বছরের সেই বিরামহীন চক্র থেকে নিজেকে সরিয়ে এবার নিজের জীবনটাকেই সময় দিতে চান সিটির বিদায়ী কোচ।
ম্যানচেস্টারের সঙ্গে গার্দিওলার সম্পর্ক শুধু ফুটবলের নয়। বিদায়ী বক্তব্যে তিনি শহরের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের কথা বলেছেন। ওয়েসিস, কবি টনি ওয়ালশ, নারী ভোটাধিকার আন্দোলনের নেতা এমেলিন প্যাঙ্কহার্স্ট, শিল্পবিপ্লব, সবকিছু মিলিয়ে ম্যানচেস্টারকে তিনি নিজের জীবনের অংশ হিসেবেই দেখেন। গার্দিওলার ভাষায়, ১০ বছর কোনো শহরে থাকলে শুধু স্টেডিয়ামের অংশ হয়ে থাকা যায় না, শহরটাকেও জানা হয়ে যায়।
সিটির নর্থ স্ট্যান্ড তার নামে করার পরিকল্পনার কথা উঠতেই আবেগ চেপে রাখতে পারেননি গার্দিওলা। তিনি বলেন, তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শুধু এটুকুই চান, তার ‘ভাইব’ আর শক্তি যেন সেখানে থেকে যায়।
.png)





