Advertisement

বাবার জন্য শৈশবের ক্লাবে ফেরার পরিকল্পনা ছিল মেসির

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বাবার জন্য শৈশবের ক্লাবে ফেরার পরিকল্পনা ছিল মেসির
অসুস্থ বাবার পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল মেসির। ছবি: গেটি ইমেজ

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে রোজারিওতে ফিরে অসুস্থ বাবার পাশে এক সপ্তাহের বেশি সময় কাটিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। গত ২৯ জুলাই আবার ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিলেও বাবার কাছ থেকে দূরে থাকতে চাইছিলেন না তিনি। সেই দূরত্ব ঘোচাতে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধেই শৈশবের ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

Advertisement

হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর এমন তথ্য সামনে এনেছেন আর্জেন্টিনার সাংবাদিক লিও পারাদিজো। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে মেসি ও নিউওয়েলসের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তাও চলছিল।

আমেরিকা টিভির ‘সিক্রেতোস ভেরদাদেরোস’ অনুষ্ঠানে পারাদিজোর দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে পাসে ক্লাভে।

সেখানে পারাদিজো বলেন, ‘লিও চলতি ছয় মাসেই নিউওয়েলসে এসে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে বাবার কাছে থাকতে চেয়েছিল। বাবার কাছাকাছি থাকার তীব্র প্রয়োজন অনুভব করছিল।’

মেসির সঙ্গে নিউওয়েলস কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের কথাও জানিয়েছেন এই সাংবাদিক। তার ভাষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল এবং আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জন্য দরজা খুলে রেখেছিল রোজারিওর ক্লাবটি।

তবে আলোচনা কত দূর এগিয়েছিল কিংবা মেসি স্থায়ী দলবদল না ঋণচুক্তিতে নিউওয়েলসে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, সেটি জানাননি পারাদিজো। মেসি, নিউওয়েলস ও ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকেও এমন কোনো পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মেসির। ফলে চলতি বছর নিউওয়েলসে খেলতে হলে মায়ামির অনুমতি এবং দুই ক্লাবের মধ্যে বিশেষ সমঝোতার প্রয়োজন হতো।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শনিবার রোজারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। পরিবারের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

বিশ্বকাপ চলাকালে হোর্হের অসুস্থতার বিষয়টি প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পথে প্রথম গোলের পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, ফুটবলের বাইরের কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্বকাপ শেষে রোজারিওতে ফিরে বাবার পাশে ছিলেন তিনি। এরপর ২৯ জুলাই মায়ামিতে ফিরে যান বলে জানিয়েছে লা নাসিওন।

মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকেই তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন হোর্হে। ছেলেকে নিউওয়েলসের বয়সভিত্তিক দলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে মেসির প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তি ও ব্যবসায়িক বিষয়গুলোও সামলেছেন তিনি।

শৈশবের ক্লাব নিউওয়েলসের হয়ে কখনো পেশাদার পর্যায়ে খেলেননি মেসি। আট বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দিয়ে পাঁচ বছর পর বার্সেলোনায় চলে গিয়েছিলেন। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে অন্তত একবার নিউওয়েলসের জার্সিতে খেলার ইচ্ছার কথা অবশ্য একাধিকবার জানিয়েছেন তিনি।

পারাদিজোর তথ্য সত্যি হলে, এবার সেই পুরোনো স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আরও ব্যক্তিগত একটি কারণ। নিউওয়েলসে ফেরা মেসির কাছে শুধু শৈশবের ক্লাবে প্রত্যাবর্তন ছিল না, ছিল অসুস্থ বাবার কাছাকাছি থাকার একটি পথও।