logo

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভাবছে ফিফা

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভাবছে ফিফা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে থাকছে না রাশিয়া। টানা দ্বিতীয়বারের মতো পুরুষ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চের বাইরে থাকছে দেশটি। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে ফিফার ভেতরে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের অধীন সব দলকে নিষিদ্ধ করে ফিফা। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকেও বাদ পড়েছিল রাশিয়া। এরপর থেকে পুরুষ, নারী কিংবা বয়সভিত্তিক কোনো পর্যায়েই তারা প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেনি।

তবে পুরোপুরি মাঠের বাইরে থাকেনি রাশিয়া। আনঅফিশিয়াল প্রীতি ম্যাচ খেলেছে তারা। মালি, নিকারাগুয়া, পেরু, চিলি ও ইরানের মতো দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করেছে রাশিয়া, কখনও ফিফা উইন্ডোর মধ্যে, কখনো বাইরে।

এবার রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে আনছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার অবস্থান নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কাঙ্ক্ষিত ফল আনেনি, বরং হতাশা ও ঘৃণা বাড়িয়েছে। রাশিয়ার তরুণ ফুটবলারদের ইউরোপের অন্য অংশে খেলতে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ার সিনিয়র পুরুষ দল সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিল ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেটিও প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনা। ২০২৩ সালে উয়েফা অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে রাশিয়াকে ফেরানোর পরিকল্পনা করেছিল। যুক্তি ছিল, সরকারের সিদ্ধান্তের দায় কিশোর ফুটবলারদের ওপর চাপানো উচিত নয়। কিন্তু ইউরোপের একাধিক দেশের আপত্তির মুখে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

সম্প্রতি ফিফা ২০২৭ সালের জন্য একটি বৈশ্বিক অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এই কাঠামো রাশিয়ার বয়সভিত্তিক দলগুলোর ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সভায় ফিফার সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, রাশিয়ার প্রতিনিধিরাও সেখানে থাকবেন।

ফুটবলের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তনের কিছু নজির ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। মিলান-কোর্তিনা ২০২৬ প্যারালিম্পিকে রাশিয়ার অ্যাথলেটরা নিজেদের পতাকা নিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১৮ সালের পর প্রথমবার এমন সুযোগ পেয়েছে দেশটি।

ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিকসও রাশিয়া ও বেলারুশের ওপর থেকে পতাকা ও জাতীয় সংগীতসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে আগে নিরপেক্ষ পরিচয়ে খেলতে বাধ্য হওয়া অ্যাথলেটরা আবার নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন।

তবে এসব সিদ্ধান্ত বিতর্ক ছাড়াই হয়নি। নর্ডিক ও বাল্টিক অঞ্চলের একাধিক দেশ, যেমন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ চলমান থাকায় রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় ফেরানো নিয়ে আপত্তি এখনও প্রবল।

রাশিয়ার সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দলের সামনে সবচেয়ে কাছের বড় প্রতিযোগিতা হতে পারে ২০২৮ ইউরো। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে আগে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠতে হবে এবং উয়েফা প্রতিযোগিতায় ফেরার পথ খুলতে হবে।

সব মিলিয়ে রাশিয়ার ফুটবল ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ফেরানোর পক্ষে সুর নরম করলেও ইউরোপীয় ফুটবল, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। 

সূত্র: স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড