ফরাসি সুপার কাপের শিরোপা হারাল পিএসজি

ইউরোপ সেরা প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) সামনে সুযোগ ছিল কয়েক দিনের ব্যবধানে মৌসুমের দ্বিতীয় শিরোপা জেতার। তবে লুইস এনরিকের দলের সেই আশা পূরণ হতে দিল না লঁস। ফরাসি লিগের এই দল তারকায় ভরা পিএসজিকে চমকে দিয়ে ফরাসি সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে। ম্যাচের প্রায় ৫০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। ক্লাবটির ইতিহাসে এটিই প্রথম ফরাসি সুপার কাপ জয়।
রোববার স্তাদ বোলার-দেলেলিসে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে ছিল পিএসজি। তবে লঁসের জমাট রক্ষণ ভেঙে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না লুইস এনরিকের দল। উল্টো ৩২ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান থোভাঁ।
আবদাল্লাহ সিমার কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন মাত্তিও উদোল। তাঁর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পিএসজির জাল খুঁজে নেন থোভাঁ।
গোলের সাত মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় লঁস। বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কিলিয়ান আন্তোনিও। বিরতির আগে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। কিন্তু যোগ করা সময়ে দেজিরে দুয়ের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধে নুনো মেন্দেস, ফাবিয়ান রুইস ও উসমান দেম্বেলেকে মাঠে নামান এনরিকে। আক্রমণের ধারও বাড়ে পিএসজির। তবে লঁস গোলরক্ষক রবিন রিসের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে হতাশ হতে হয় দেম্বেলেদের।
৬২ ও ৭৪ মিনিটে দেম্বেলের দুটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন রিসের। ৭৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইস বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
শেষ দিকে মিখাল স্কোরাশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষকে কনুই মারায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন নুনো মেন্দেস। ফলে ম্যাচের শেষ সময় দুই দলই ১০ জন নিয়ে খেলে। বাকি সময় পিএসজির চাপ সামলে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে লঁস।
প্রতিযোগিতাটিতে এটি ছিল লঁসের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। ১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম ফাইনালে পিএসজির কাছেই হেরেছিল তারা। এবার সেই প্রতিপক্ষকে হারিয়েই প্রথম শিরোপার স্বাদ পেল দলটি।
নতুন কোচ দিনো টপমোলারের অধীনে প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচেই শিরোপা জিতল লঁস। অন্যদিকে কয়েক দিন আগে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জেতা পিএসজি একই সপ্তাহে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করল।



