logo

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের বাইরে ইতালি

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের বাইরে ইতালি

টাইব্রেকারে বসনিয়ার চতুর্থ শট জালে ঢুকতেই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেলেন ইতালির খেলোয়াড়রা। সামনে উদ্‌যাপনে মেতে উঠেছে বসনিয়া, আর তাদের চোখে শুধু হতাশা। আরেকটি বিশ্বকাপ হাতছাড়া—টানা তৃতীয়বারের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা হলো না চারবারের চ্যাম্পিয়নদের।

জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত এই প্লে-অফ ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। সেখান থেকে পেনাল্টি শুটআউটে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে ইতালি। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বসনিয়া নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট। 

ম্যাচের গল্পটা অবশ্য পুরোপুরি নাটকীয়তায় ভরা। শুরুটা ইতালির পক্ষেই ছিল। প্রতিপক্ষের ভুলে সুযোগ পেয়ে মইসে কিন গোল করে এগিয়ে দেন আজ্জুরিদের। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হয়তো আবারও বিশ্বকাপের পথে ফিরছে ইতালি।

কিন্তু ফুটবল অনেক সময় নির্মম। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আলেসান্দ্রো বাস্তোনির লাল কার্ড ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একজন কম নিয়ে খেলা ইতালি ধীরে ধীরে চাপে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় ম্যাচের। দোনারুম্মা কয়েকবার অবিশ্বাস্য সেভ করে ইতালিকে টিকিয়ে রাখেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডেডিচের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে তাবাকোভিচ গোল করে সমতা ফেরান।

সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল এগোতে পারেনি। ভাগ্য নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই ভেঙে পড়ে ইতালি। দুইটি শট মিস করে তারা, আর বসনিয়া কোনো ভুল না করে ৪-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করে ইতিহাসের অন্যতম বড় জয়।

এই জয়ের অর্থ বসনিয়ার জন্য বিশাল—তারা আবারও বিশ্বকাপে। কিন্তু ইতালির জন্য এর অর্থ আরও গভীর। ২০১৮, ২০২২—এরপর ২০২৬, টানা তিনটি বিশ্বকাপেই অনুপস্থিতি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দলের জন্য এটি কেবল ব্যর্থতা নয়, এক গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি।

একসময় যারা বিশ্বকাপ জয়ের গল্প লিখত, এখন তারা সেই গল্পের বাইরেই রয়ে যাচ্ছে। জেনিৎসার এই রাত তাই শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়—এটি ইতালির ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায়।